1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৭ সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার: ৫ সহোদর গ্রেপ্তার অবহেলা-দুর্নীতি হলে বদলিতে বিশ্বাসী নয়, চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী তারেক রহমানকে ১০ বছর সময় দিতে হবে, কোনো কথা চলবে না: জুলাইযোদ্ধা মাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘বিচারের নামে অবিচার নয়’: প্রধানমন্ত্রী শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ পিতৃপরিচয়হীন ও প্রান্তিক শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সহজ করল সরকার: ফরিদপুরে কর্মশালা পুলিশ সুপার নওগাঁর কঠোর নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান ০৪ জন গ্রেফতার বকশীগঞ্জে সোলার প্যানেলের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত! নলডাঙ্গায় নজরুল জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

পরকীয়া সন্দেহে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করান স্বামী

জিসান কবিরাজ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২৮১ বার পড়া হয়েছে
বাগেরহাটের শরণখোলায় চাঞ্চল্যকর মা ও ৫ বছর বয়সী শিশু মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পরকীয়া সন্দেহ ও পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে নিজেই স্ত্রীকে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে হত্যা করিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে পিবিআই বাগেরহাটের কাছে এমন তথ্য দিয়েছেন ওই নিহতের স্বামী আবু জাফর হাওলাদার।
পিবিআই বাগেরহাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ফেব্রুয়ারি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মা-মেয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হত্যার স্বীকার পাপিয়ার স্বামী মো. আবু জাফর হাওলাদার (৩৯), ভাশুর আবু তালেব হাওলাদার (৫৫) ও তার স্ত্রী আসমা বেগম (৪৫) এবং আরেক ভাশুর মো. আবু বক্কার হাওলাদার (৫০)।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের অনুমতিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের হেফাজতে নেয় পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার স্বীকার আবু জাফর হাওলাদার জানান, পরকীয়া সন্দেহের জেরে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে নিজের স্ত্রীকে হত্যা করিয়েছেন তিনি।
তার স্বীকারোক্তিমতে, লোক দিয়ে তার স্ত্রীকে হত্যার কথা থাকলেও মেয়েকে হত্যার কথা ছিল না। সব সময় মোবাইলফোনে কার সঙ্গে কথা বলেন, বিষয়টি জানতে চাইলে তার স্ত্রী পাপিয়া তাকে জুতাপেটা করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন। স্ত্রী পাপিয়া এর আগেও স্বামীকে ঝাড়ুপেটা করেছিলেন।
এসব বিষয় নিয়ে স্ত্রীর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন আবু জাফর হাওলাদার। পরিবারিক এসব জটিলতার কথা হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া মনির হাওলাদারকে জানাত আবু জাফরের স্ত্রী পাপিয়া বেগম। এই সুযোগে আবু জাফরের কাছে মনির জানতে চায়, কী জাফর ভাই, তোমাকে নাকি তোমার বউ জুতা দিয়ে মেরেছে?।
তখন মনির প্রস্তাব দেয় তাকে ১ লাখ টাকা দিলে সব সমস্যার সমাধান করে দেবেন। তখন আবু জাফর বলে ‘চিন্তা করে দেখি’। পরে আবু জাফর তার ভাই আবু তালেবের মাধ্যমে মনিরকে ৩০ হাজার টাকা দেয়।মনির টাকা পেয়ে আবু জাফরকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে নিষেধ করেন, কাজ হলে বাড়ির লোকজন তাকে জানাবে বলে জানায়। কথা অনুযায়ী গত বছরের ১১ আগস্ট আবু জাফরের স্ত্রী পাপিয়া ও মেয়ে সওদা জেনিকে কুপিয়ে হত্যা করে মনির হাওলাদার।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলামের আদালতে একই ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আবু জাফর হাওলাদার।
পিবিআই, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আবু জাফর ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে নিজ স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা আসামিদের আদালতে সোপর্দ করেছি। পরবর্তী ব্যবস্থা আইন অনুযায়ী হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে পাপিয়া আক্তার (৩৮) ও তার মেয়ে ছাওদা জেনিকে (৫) কুপিয়ে হত্যা করে মনির হাওলাদার ও তার লোকজন।
পরদিন হত্যার শিকার পাপিয়ার ভাই আলআমিন খলিফা বাদী হয়ে হত্যার শিকার পাপিয়ার স্বামী আবু জাফরসহ ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা ৪ জনকে আসামিকে করে শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই হত্যা মামলায় মনির হাওলাদারসহ তার তিন ভাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পিবিআই বাগেরহাট মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায়।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com