প্রবীর মন্ডল নামে এক ভারতীয় নাগরিকের লাশ প্রায় পাঁচ বছর ধরে পড়ে আছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
হিমঘরে। তার বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বরানগর উপজেলায় বরানগর গ্রামে।পুলিশ সূত্রে জানাজায় মৃত্য মহাদেব মন্ডলের ছেলে প্রবীর মন্ডল প্রেমের সূত্রে ২০১৮ সালের ৩ মার্চ বেনাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে আসেন এবং একই বছরের ১৬ মার্চ ভারতে ফিরে যান। পরে আবার ৮ নভেম্বর বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং কিভাবে এসছেন তা নিশ্চিত করতে পারেনাই পুলিশ।
জানাযায়, ৮ নভেম্বর বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধার দীপঙ্কর বর্মনের মাধ্যমে পাটগ্রাম মনিরুল ইসলামের (১৯) বাড়িতে যান এবং তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। পরেরদিন রাতে রাত্রিযাপন কালে প্রবীর মন্ডলকে ঘুমন্ত অবস্থায় গোঙ্গানো ও হাত-পা ছটফট করা দেখে মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবার লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রবীর মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পাটগ্রাম থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিরকল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রবীর মন্ডলের লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে কঙ্কাল হয়ে পড়ে রয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে হাসপাতালে ভারতীয় লাশ পড়ে আছে। এটা নিয়ে উপর মহলের কথা চরছে কি ভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঠানো যায়। এবং প্রশাসনিক জটিলতা কেটে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার নিজ দেশে হস্তান্তর করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
রংপুর জজকোর্টে ডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন,আন্তরজার্তিক আইন অনুযায়ি বিদেশি নাগরীকের লাশ দ্রুত সময়ের মধ্যে তার নিজ দেশে পৌছে দেয়ার কথা থাকলেও আইনের বিধান অনুসরণ না করে বিদেশি লাশ ফেলে রাখা হয়েছে। তাই সরকার এবং প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
কোনো বিদেশি নাগরিক প্রবাসে মারা গেলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও কনস্যুলার রীতি অনুযায়ী তার পরিবার বা নিজ দেশের সরকার মরদেহ ফেরত পাওয়ার দাবি রাখতে পারে। মৃত ব্যক্তির মরদেহ নিজ দেশে পাঠাতে দূতাবাস বা কনস্যুলেট মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আইনি সহায়তা দেয়। কিন্তু ভারতীয় লাশ ৫ বছর ধরে রংপুর মেডিকেলে কান এমন মন্তব্য সুশীল সমাজ করেছেন।




