পাংশায় চাঁদাবাজির সময় গণপিটুনিতে সম্রাট বাহিনীর প্রধান নিহত, অস্ত্রসহ সহযোগী আটক
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নে চাঁদাবাজির সময় গণপিটুনিতে অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট (৩৫) নামে এক চিহ্নিত চাঁদাবাজ নিহত হয়েছেন। এ সময় তার সহযোগী সেলিমকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটার গানসহ আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
নিহত অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের কামারের মোড় এলাকার মৃত অক্ষয় মন্ডলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০১৪ সালে ভারতে চলে যান। এর আগে দেশে থাকাকালে তিনি কামারের কাজ করতেন। ভারতে যাওয়ার পর তার নামে এলাকায় ‘সম্রাট বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী দল গড়ে ওঠে, যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাট ১০ থেকে ১২ জন সহযোগী নিয়ে কলিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের শহীদ শেখের বাড়িতে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে যান। এ সময় বাড়ির লোকজন চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সম্রাট ও তার সহযোগীরা পালানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসীরা ধাওয়া দেয়।
এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বসুয়া গ্রামে স্থানীয়রা সম্রাট ও তার সহযোগী সেলিমকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অমৃত মন্ডলকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে এবং তার সহযোগী সেলিমকে একটি পিস্তল ও একটি ওয়ান শুটার গানসহ আটক করে।
আটক সেলিম কলিমহর ইউনিয়নের বসুয়া গ্রামের মো. ইসলাম শেখের ছেলে।
শহীদ শেখের চাচাতো ভাই হানিফ শেখ বলেন, “এক মাস আগে সম্রাট আমার ভাইয়ের কাছে মোবাইল ফোনে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। বুধবার রাতে সে দলবল নিয়ে আবার চাঁদা চাইতে আসে। তখন গ্রামবাসীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে।”
অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাটের বড় ভাই অমিয় মন্ডল বলেন, “ভোরে পুলিশ এসে আমাকে ডেকে তোলে। এর আগে আমি কিছুই জানতাম না। আমার ভাই ২০১৪ সালে ভারতে চলে যায়। এরপর তার সঙ্গে আমার আর যোগাযোগ ছিল না। ভারত থেকে কবে দেশে এসেছে তাও জানি না। এখন ভাই হিসেবে পোস্টমর্টেম ও শেষকৃত্য করতে হবে।”
পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম জানান, অমৃত মন্ডল ওরফে সম্রাটের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি হত্যা ও একটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। সম্রাট নিহতের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।