ফুলগাজী উপজেলায় জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ীদের পাঁচটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হুমকি ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন স্টার নিউজের ফেনী প্রতিনিধি তানভীর চৌধুরী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফুলগাজীর মুন্সিরহাট বাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল যুবক বাজারে এসে জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দোকানের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও মালামাল তছনছ করা হয়। হামলায় অন্তত পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাংবাদিক তানভীর চৌধুরী। তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও ভিডিও ফুটেজ ধারণকালে স্থানীয়ভাবে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচিত আশিক নামের এক ব্যক্তি সহযোগীদের নিয়ে তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক তানভীর চৌধুরী বলেন,
“আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় আশিক এসে আমাকে ভিডিও ধারণে বাধা দেয়। একপর্যায়ে সে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাজার থেকে চলে যেতে বলে। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয়।”
এ ঘটনায় ফেনীর সাংবাদিক সমাজ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহকালে একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অভিযুক্ত আশিক ও হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাদের সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে অভিযুক্ত আশিকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে ফুলগাজী থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মুন্সিরহাট বাজারে দোকান ভাঙচুরের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, মুন্সিরহাট বাজারে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।