1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৭ সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার: ৫ সহোদর গ্রেপ্তার অবহেলা-দুর্নীতি হলে বদলিতে বিশ্বাসী নয়, চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী তারেক রহমানকে ১০ বছর সময় দিতে হবে, কোনো কথা চলবে না: জুলাইযোদ্ধা মাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘বিচারের নামে অবিচার নয়’: প্রধানমন্ত্রী শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ পিতৃপরিচয়হীন ও প্রান্তিক শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সহজ করল সরকার: ফরিদপুরে কর্মশালা পুলিশ সুপার নওগাঁর কঠোর নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান ০৪ জন গ্রেফতার বকশীগঞ্জে সোলার প্যানেলের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত! নলডাঙ্গায় নজরুল জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: তিন শিক্ষক নিয়েই চলছে বিভাগের ৬টি ব্যাচ

ইয়াসিন আহমেদ ফাহিম 
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২৮১ বার পড়া হয়েছে

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শিক্ষক নিয়ে চলছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছয়টি ব্যাচ। ফলে সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে ওয়ার্ক ক্যালকুলেশন নীতিমালা অনুযায়ী বিভাগটিতে বর্তমান ১০ জনের অধিক শিক্ষক থাকার কথা।

কিন্তু এপর্যন্ত বিভাগটিতে মাত্র পাঁচজন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে দুজন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। এতে প্রতি সেমিস্টারে একজন শিক্ষককে গড়ে ৬ থেকে ৮টি পাঠ নিতে হচ্ছে তাদের।তারপরেও রয়েছে পাঠদানের কক্ষ সংকট।একটি কক্ষেই চলে ছয় ব্যাচের পরীক্ষা ও পাঠদান।গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষক বলছেন- ক্লাস,সেমিস্টার,মিড,পরীক্ষার খাতা দেখা ও পরীক্ষার ফলাফল শীট তৈরি করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার।এ দশা শুধু যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে আছে তা নয়,অন্যান্য বিভাগ গুলোর একই অবস্থা।তবে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে করুণ দশা সাংবাদিকতা বিভাগেই। এতে করে ঠিক সময়ে ক্লাস, প্রেজেন্টেশন, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষায় বসতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষক সংকটে অনেক বিভাগের সেমিস্টারের ফলাফল দিতেও লাগছে ৫ থেকে ৬ মাস।যেখানে ৬ মাসে সেমিস্টার শেষ করার কথা সেখানে ৮ মাসেও শেষ হয়না। কারণ, কিছু সংখ্যক শিক্ষক মিলে অনেকগুলো ব্যাচের খাতা দেখতে হয়। সে কারণে পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষা নিতেও দেরি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধিকাংশ বিভাগে দেখা যায় প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক খুবই নগণ্য। গড়ে ৫৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একজন শিক্ষক। যেখানে অর্গানোগ্রামভুক্তে ৪৫৩ জন শিক্ষক থাকার কথা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ছাড়কৃত ২১০ জন।
তারমধ্যে পাঠদান নিচ্ছে বর্তমানে ১৬৫ জন।বাকি শিক্ষকরা রয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রি নিতে শিক্ষা ছুটিতে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কক্ষ সংকট প্রকোপ।প্রতিটি বিভাগের জন্য রয়েছে মাত্র একটি কক্ষ,তাও সেটি মৌখিকভাবে। অনেক সময় শিক্ষকরা নিজের বসার স্থানও পায়না। একটা ছোট রুমে পাঁচ-ছয় জন শিক্ষককে গাদাগাদি করে বসতে হয়।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক ইমরান হোসেন দেশবুলেটিন  কে জানান,আমাদের বিভাগে পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন শিক্ষা ছুটিতে। এখন একজন শিক্ষককে গড়ে ৮টি করে কোর্সের ক্লাস নিতে হচ্ছে।এতে সেশনজটের ঝুঁকি বাড়তে পারে শিক্ষার্থীদের।

ওয়ার্ক ক্যালকুলেশন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক চেয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি কিন্তু কোন সুফল আসেনি।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আপাতত বাইরে থেকে খন্ডকালীন শিক্ষক দেন তাও একাডেমিক কার্যক্রম ভালোভাবে চালিয়ে নিতে পারব।সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক দিল আফরোজ খানম বলেন, যদি কোন বিভাগের এমন দুর্দশা হয় তাহলে ডিন অফিস বরাবর আবেদন করতে পারেন।বিষয়টি বিবেচনা রেখে একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে প্রস্তাব রেখে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে সমাধান করা যেতে পেরে।এ বিষয়ে তার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তিনি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫টি বিভাগ রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। ৬ থেকে ৭ টি ব্যাচের বিপরীতে পাঠদান করাচ্ছে প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে চারজন শিক্ষক,রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আছে ছয়জন,রসায়ন বিভাগে সাতজন,মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে চারজন,উপকূল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগে পাঁচজন,অর্থনীতি বিভাগের সাত জন,মার্কেটিং বিভাগে ছয়জন,লোকপ্রশাসন বিভাগে ছয়জন ও ইতিহাস বিভাগে চারজন শিক্ষক। উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে ছুটিতে রয়েছেন অনেক শিক্ষক।

ফলে সেশনজটের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন রয়েছে আক্ষেপ,তেমনি সেশনজটের জন্য রয়েছে অনেক হতাশা। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই হতাশার কথা জানান দেয়।অনেকে আবার আত্মহত্যার কথা বা জীবন জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এমন মন্তব্য শুনান দিতে দেখা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে আমি যোগদান করেছি। যোগদান করেই ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছি যাতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারেন। অন্য একটি সূত্র বলছেন, কয়েকদিন আগে তারা জানেন ১৩ টি বিভাগে ১৩ জন শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে নির্দেশ দিতে বা ছাড়পত্র দিতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন(ইউজিসি)।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আমার মুখ্য বিষয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা।শিক্ষক সংকট দূরীকরণে বদ্ধপরিকর। যাতে শিক্ষার্থীরা সেশনজটের সম্মুখীন না হতে হয়,সে ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন শিক্ষক নিয়োগ না হলেও প্রতিবছরই আসছে নতুন নতুন ব্যাচ। এতে শিক্ষক সংকট চরমে উঠেছে।এরমধ্যে গবেষণা সহ অন্যান্য বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে সময় দিতে হয়। একজন শিক্ষকের দ্বারা এতগুলো ক্লাস নেওয়া, খাতা মূল্যায়ন করা সহ বেশকিছু একাডেমিক কার্যক্রমে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। শিক্ষক সংকটটা দূর হলে শিক্ষার গুনগতমান আরও বাড়বে বলে আশাবাদী বিভাগগুলো।

শিক্ষক সংকটে শিক্ষার গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন,যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকলে সেটি শুধু গুনগত মান নয়,একটি বিভাগের সবদিকে প্রভাব পড়তে পারে।যদি ইউজিসির অর্গানোগ্রামে শিক্ষকের চাহিদা থাকে,তাহলে প্রত্যাশানুযায়ী শিক্ষক সংকট দূরীকরণে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। শিক্ষা ছুটিতে যারা আছেন,সেই সংখ্যার বিপরীতে নিয়োগ দিলে বিভাগের সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছি।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অন্তত দুজন সদস্য জানিয়েছিলেন, শিক্ষক নিয়োগের জন্য লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালা না মেনে আবেদন করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রতিবারই একই ভুল করে। সংশোধন করে দেওয়ার পর নীতিমালা মেনে যে বিভাগগুলো আবেদন করেছে সেগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালা মেনে আবেদন করলে অবশ্যই তারা শিক্ষক পাবেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com