বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় জানালী পাড়ার ম্রো জনগোষ্ঠীর ওপর রোহিঙ্গা ও সেটেলার সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক নৃশংস হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন (BMSA)।
বাংলাদেশ ম্রো স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আলীকদম উপজেলার ৩ নং ইউনিয়নের জানালী পাড়ায় সংঘটিত দুই দফা হামলায় ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর অন্তত ১০ জনের বেশি নিরীহ মানুষ গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন—যা পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। দীর্ঘদিন ধরে জানালী পাড়ার ম্রো জনগোষ্ঠীর বাগানের ফসল ও গৃহপালিত পশু লুটপাটের অভিযোগ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই এই সহিংসতার পথ সুগম করেছে বলে আমরা মনে করি।”
বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, “বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশের অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর ভূমিকা। সন্ধ্যার দিকে গ্রামবাসীদের থানায় ডেকে নিয়ে পরে ভুল নাম্বারে কল বলার ঘটনা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক আচরণকে স্পষ্ট করে। এর পরপরই দ্বিতীয় দফা হামলা সংঘটিত হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, পাহাড়ে ম্রোদের ভূমি, জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলাকে আমরা মেনে নেব না। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে ম্রোসহ সকল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”
বিবৃতিতে ‘আলীকদমে সংঘটিত হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করা; হামলার সাথে জড়িত সকল রোহিঙ্গা ও সেটেলার সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা; জানালী পাড়া ও আশপাশের “আদিবাসী” গ্রামগুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পাহাড়ে “আদিবাসীদের” ভূমি ও জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।