1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৭ সুন্দরবনে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার: ৫ সহোদর গ্রেপ্তার অবহেলা-দুর্নীতি হলে বদলিতে বিশ্বাসী নয়, চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী তারেক রহমানকে ১০ বছর সময় দিতে হবে, কোনো কথা চলবে না: জুলাইযোদ্ধা মাকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘বিচারের নামে অবিচার নয়’: প্রধানমন্ত্রী শাওন-মাহির বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় অভিযোগ পিতৃপরিচয়হীন ও প্রান্তিক শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সহজ করল সরকার: ফরিদপুরে কর্মশালা পুলিশ সুপার নওগাঁর কঠোর নির্দেশনায় ধামইরহাট থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান ০৪ জন গ্রেফতার বকশীগঞ্জে সোলার প্যানেলের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত! নলডাঙ্গায় নজরুল জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বাম্পার আমের ফলনের আশা

মোঃ জিয়াউদ্দিন 
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫৭ বার পড়া হয়েছে
মুকুল ধরে রাখতে নানা প্রকার পরিচর্যায় এক ব্যস্ত আম চাষিরা। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুকুল ঝরে যায়।  যার ফলে আশানুরূপ গুটি আসে না। এতে স্থানীয় বাজারে আমের চাহিদা পূরণের জন্য অন্যান্য জেলা থেকে আম আনা হয়। তবে যেভাবে আমের মুকুল দেখা দিয়েছে, তাতে বাম্পার ফলনের আশা করেন চাষিরা।
আম চাষিরা বলেন, আম পূর্ণাঙ্গ ফলে রূপ নিতে কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করে। প্রথমে মুকুল, পরে গুটি এবং গুটি থেকে বড় আম। মুকুল আসার আগে এবং পরে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ মুকুল ঝরে গেলে উৎপাদন বহুলাংশে হ্রাস পায়।
 আম চাষিরা আরো জানান, মুকুল আসার সময়  পোকা  মাকর কচি অংশের রস চুষে খায়। ফলে মুকুল শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে ঝরে পড়ে। এছাড়া পোকা  মাকর আঠালো পদার্থ নিঃসৃত করে, এতে ফুলে পরাগরেণু আটকে যায়, পরাগায়নে বিঘ্ন ঘটে। চলতি বছর আমের ফলন গত বছরের ফলনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করেন আম চাষির।
ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মো. জাপর বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এ বছর আমের জন্য অনুকূলই হবে,শীত কুয়াশার দাপট অনেকাংশে কম। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়নি। ঝড়ে মুকুল ঝরে পড়েনি। মুকুলের রোগবালাই দমন করতে ওষুধ ব্যবহার করেছি এবং গাছের প্রতি যত্ন নিয়েছি।
চরফ্যাশন এলাকার নাজিম ও জমির বলেন, মুকুলের রোগবালাই আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী গাছের পরিচর্যা করছেন।
লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে। এবার ৮৫ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। একটু বৃষ্টি হলে আমগাছের জন্য অনেক উপকার হতো। বৈশাখণ্ডজ্যৈষ্ঠে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশানুরূপ ফলন হবে।
মনপুরা – মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে উপজেলার প্রায় প্রতিটি আম গাছের ডালপালা। এবার মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে, মুকুলে ভরে গেছে আমবাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছ। আম্রপলি, ল্যাংড়া, হাঁড়িভাঙা, বারি-৪, বারি-৫, বারি-২ ও কাতিমন জাতের গাছ রয়েছে। তবে ছোট ছোট আকারের চেয়ে বড় ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল এসেছে।
 চেয়ারম্যান বাজার কাশেম জানান, তাদের আমগাছে এবার আগেভাগে মুকুল এসেছে। ভালো ফলন পেতে ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। এ বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।
আম চাষি মো.কামাল জানান, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে। কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করছি। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন, উপজেলায় বছরজুড়ে নিয়মিত পরিচর্যা, গাছের গোড়ায় বাঁধ দিয়ে পানি সেচের ফলে গাছ নিয়মিত খাদ্য পাচ্ছে। এতে ফলও মিলছে। মুকুল আসার আগে ও গুটি আসলে হপার পোকা দমনের জন্য স্প্রে করতে হয়। সাইপরমেথ্রিন ৯ ইসি (রিপকর্ড, রেলোথ্রিন, সিনসাইপার, ফেনম, বাসাড্রিন) বা ল্যামডা সাই হ্যালাথ্রিন ২.৫ ইসি বা ফেন ভেলারেট ১৮ ইসি গ্রুপের যেকোনো একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে এক মিলিলিটার হারে গাছের পাতা, মুকুল ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
পাওডারি মিলডিও রোগের জন্য ফুল আসার আগে একবার এবং ফুল ধরার পর একবার সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক ওষুধ যেমন কুমুলাস, ম্যাকসালফার, থিওভিট, রনভিট ২ গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়।
অ্যানথ্রাকনোজ রোগের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি প্রোপিকনাজল (টিল্ট) বা ১ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম (করজিম/অটোস্টিন/ফরাস্টিন) বা ২ গ্রাম ডাইথেন এম৪৫ মিশিয়ে ১০ দিন অন্তর গাছের পাতা, মুকুল ও ডালপালা ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করা হয়। আম মারবেলের মতো হলে প্রতি লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, চরফ্যাশন উপজেলায় গত বছরের অর্জিত মাত্রা ছিল ২৫ হেক্টর জমি, উৎপাদন ৪১২৫ টন। যার প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ জমিতে গাছের মুকুল চলে এসেছে। চাষিদের বলেছি, ফুল ফোঁটা অবস্থায় কোনো ওষুধ বা কীটনাশক ব্যবহার না করার জন্য। গাছের পোকা গাছেই লুকিয়ে থাকে। এ ধরনের পোকা খুব বেশি দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ প্রদানের কথা জানান তিনি।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com