মাগুরার বেরোইল পলিতা গ্রামের ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ দাউদ হোসেন এক ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মামলায় পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মাগুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলী আদালতে দায়েরকৃত সিআর ৬৮/২৫ নং মামলায় তাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার সাক্ষীরাই এখন বলছেন, মুক্তিযোদ্ধা দাউদ হোসেন সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং ঘটনার বিবরণ মিথ্যা।
ডহরসিংড়া গ্রামের ইব্রাহীম খান বাদী হয়ে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা পাওনার দাবিতে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মুক্তিযোদ্ধা দাউদ হোসেন এবং তার তিন ছেলেকে আসামি করা হয়েছে। বাদীর দাবি অনুযায়ী, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে সাক্ষীদের সামনে মুক্তিযোদ্ধার হাতে ৪ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আরও কয়েক লক্ষ টাকা লেনদেন হয়।
মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তারাই এখন বাদীর অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করছেন।
সাক্ষী মিকাইল মোল্লা (কালামিয়া): তিনি জানান, “গ্রামে বসে আমাদের সামনে মুক্তিযোদ্ধার হাতে টাকা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বরং আমি নিজেই বিদেশ যাওয়ার জন্য ইব্রাহিম খানকে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়েছি। সেই সময় কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা তার ছেলেরা উপস্থিত ছিল না। আদালত সাক্ষী নিলে আমি স্পষ্ট বলব—প্রতারক ইব্রাহিম আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে।”
সাক্ষী মোহাম্মদ জিয়া শেখ: তিনি জানান, “আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ইব্রাহিমকে টাকা দিয়েছি ঢাকায় গিয়ে। গ্রামে কোনো লেনদেন হয়নি। সুতরাং আমার উপস্থিতিতে গ্রামে বসে লেনদেনের যে কথা বলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।”
সাক্ষীরা আরও জানান, মামলার ১ নম্বর আসামি এবং মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে মোজাহিদুল ইসলাম শিপন গত ২৫-৩০ বছর ধরে এলাকায় আসেন না। ফলে গ্রামে বসে তার উপস্থিতিতে লেনদেনের বিষয়টি কাল্পনিক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা দাউদ হোসেন বলেন,
”আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। এই মিথ্যা মামলা আমার সম্মান ও জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। আমি প্রশাসনের কাছে মামলাটি পুনরায় গভীর তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং দ্রুত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে আমাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করছি।”
সাক্ষীদের সরাসরি অস্বীকার এবং মামলার বর্ণনায় অসংগতির কারণে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি অনতিবিলম্বে সত্য উদ্ঘাটন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।