বিদ্রোহীদের তোপের মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার, একের পর এক শহর দখল করেছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো । ক্ষমতা দখলের পর বর্তমানে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে জান্তা প্রশাসন। এবার তারা সরকার গঠনের কথা জানিয়ে দিয়েছে, শনিবার ২৪শে ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী পালাউং ষ্ঠেট লিবারেশন ফ্রন্ট (পিএসএলএফ) জানিয়েছে। তারা আগামি বছরের মধ্যে সরকার গঠন করবে। মিয়ানমারের উত্তর শান রাজ্যের সাতটি শহরে এই সরকার গঠনের কথা জানানো হয়েছে। পিএসএলএফ মুলত তায়াং ন্যাশনাল লিভারেশন আর্মির (পিএন এল এ) রাজ্নৈতিক শাখা। এটি ১৯৯২ সালে থাইল্যান্ড সীমান্ত গঠিত হয়েছিল।
দেশটিতে জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহীর জোটবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স এবং আরাকান আর্মি সক্রিয় রয়েছে । গত বছরের (২৭ শে অক্টোবর) উত্তর শান থেকে তাদের তৎপরতা শুরু করে এ জোট। তাদের হাতে জান্তার ২০ টি শহর ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রোটের পতন হয়েছে ।
প্রতিবেদনায় বলা হয়েছে টি এন এল এফের নামসান,মানটং,নামকেং,কুতকাই,নামতু,মংল ও মংজিওয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তারা স্থানীয়দের বিরুদ্ধে সশস্ত্র দলে বেড়াতে জোর করে বাধ্য করে ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে । গুষ্টির প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল টার আইকবং জানুয়ারিতে তাইযাং জাতীয় বিপ্লব দিবসের বক্তৃতা, তাইয়াং বাস্তচ্যুতদের স্বাধীন হওয়া এলাকায় পূর্ণঘটনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন স্বাধীন হওয়া এলাকাগুলো পূর্নবাসনে আমরা জনগণকে তাদের সমর্থ্য অনুযায়ী যে কোন সহায়তা প্রদানের জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানাই। জানুয়ারি থেকে এই গুষ্টিটি কুতকাই ও নামতুতে প্রাথমিক কাঠামো তৈরির জন্য কাজ শুরু করেছে। টিএনএলএ নিরাপত্তা আইনের শাসন,স্ব্যাস্থ ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে । স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সামরিক স্বৈরশাসন হটানো আমাদের স্বপ্ন। আমরা টি এন এল এর ওপর আস্থা রাখি। তারা সুছিন এলাকাগুলো পূর্ণঘঠন করতে পারবে বলেও আমরা আশা করছি। চলতি মাসে পিএসএলএফের এর বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ১৮৫ জন অংশ নিয়েছিলেন। গুষ্টির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে মিয়ানমারের জনগণকে সামরিক শাসন ভাঙতে এবং ফেডারেল ও গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করা উচিত। এতে সব জাতি গোষ্ঠি শান্তিপূর্ণভাবে সহযোগিতা করতে পারে। তায়াং সাংঘাত ও সামরিক শাসনে ভুগছে।