1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাদারীপুর কালকিনিতে সাইবার সিকিউরিটি এসেনশিয়াল প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ শীতের শেষেও নেই ভিড়, রমজানে নিস্তব্ধ বাগেরহাটের পর্যটন স্পট ভোলা জেলার লালমোহন থানা পুলিশের অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ ০৩ জন ডাকাত গ্রেফতার প্রশাসনিক উদাসীনতায় ধ্বংস হচ্ছে সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক সম্পদ পিরোজপুরে বিদেশী পিস্তল ও গুলিসহ আটক ১ রামপালে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নারী সহ আহত-৬ ইমাম নয়,আপনাদের খাদেম হয়ে থাকতে চাই: তারাগঞ্জে এটিএম আজহারুল ইসলাম ঈশ্বরগঞ্জকে অপরাধমুক্ত ও উন্নয়নশীল উপজেলা গড়তে তরুণ শক্তি একজোট রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন এমডি হলেন ভারতীয় প্রকৌশলী রমানাথ পূজারী চিরিরবন্দরে পাচারের সময় ৮৩ বস্তা সার আটক, জরিমানা

রাণীশংকৈলে পিআইওর ‘জমিদারি’ বনাম বিপন্ন জনপদ: প্রশাসনের নীরবতা কি সম্মতির লক্ষণ?

জসীমউদ্দীন ইতি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে
 প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী যখন নিজেকে জনসেবকের বদলে ‘দণ্ডমুণ্ডের কর্তা’ ভাবতে শুরু করেন, তখন সেই জনপদের সাধারণ মানুষের জীবন যে কতটা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ এখন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা। স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নূরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাহাড় কেবল ব্যক্তিগত অনিয়মের গল্প নয়, বরং এটি একটি গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া দুর্নীতির ক্ষত।
গত সোমবার উপজেলার সকল ইউপি সদস্যদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ঘটনাপ্রবাহ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ক্ষমতার দাপটে এখানে আইন ও নীতি নৈতিকতা কতটা অসহায়।
নূরুন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কোনো সাধারণ বিচ্যুতি নয়। একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একজন জনপ্রতিনিধিকে ‘সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে পুঁতে ফেলার’ প্রকাশ্য হুমকি দিতে পারেন? এটি কি কেবল অপেশাদার আচরণ, নাকি চরম ধৃষ্টতা? ইউপি সদস্য আক্কাশ আলীর অভিযোগ অনুযায়ী, বরাদ্দের কাজে উৎকোচ দিতে অস্বীকার করায় তাকে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যখন একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিই নিরাপদ নন, তখন সাধারণ মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দুর্নীতির তথ্য ধামাচাপা দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি শীতবস্ত্র বিতরণে অনিয়ম এবং সিসি ক্যামেরা ক্রয়ের সরকারি অর্থ ব্যয়ের হিসাব জানতে চাওয়ার জেরে চারজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ মামলা করেছেন ওই পিআইও। সাংবাদিক আব্দুল জব্বারের মতো মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দাবি করেছেন, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও মামলার আসামি হয়েছেন। তথ্যের অধিকার যখন মামলার ভয়ে কুঁকড়ে যায়, তখন বুঝতে হবে সেই দপ্তরে অনিয়মের অন্ধকার কত গভীর। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর কেয়ারটেকারকে পর্যন্ত মামলার আসামি করা হয়েছে স্রেফ ভাড়ার টাকা চাওয়ার অপরাধে। এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের এক নিকৃষ্ট উদাহরণ।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, নূরুন্নবী সরকারের এই বেপরোয়া আচরণের শেকড় অনেক গভীরে। ২০২০ সালে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল এবং শাস্তি হিসেবে বেতন কমানো হয়েছিল। ২০১৯ সালে জুন ক্লোজিংয়ের সময় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে জিম্মি করে কয়েক কোটি টাকার বিলে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো রোমহর্ষক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৫ সাল থেকে দুদকসহ একাধিক মামলা ও বিভাগীয় শাস্তি পাওয়ার পরও তিনি বারবার কীভাবে বহাল তবিয়তে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় পদায়ন পাচ্ছেন, তা এক বিরাট রহস্য। তার এই ‘অজেয়’ হয়ে ওঠার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের আশীর্বাদ কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্ন আজ ঠাকুরগাঁওবাসীর মুখে মুখে।
আমরা দেখছি, রানীশংকৈল থানার ওসি বা উপজেলা প্রশাসন গতানুগতিক তদন্তের আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যার অতীত রেকর্ড এতই কলঙ্কিত এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, তাকে কেন তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার বা ওএসডি করা হচ্ছে না? তদন্তাধীন অবস্থায় তিনি পদে বহাল থাকলে তথ্য ও প্রমাণ নষ্ট করার এবং সাক্ষীদের ভয় দেখানোর প্রবল আশঙ্কা থাকে। ইতিপূর্বেও তিনি বদলি ঠেকাতে উচ্চ আদালতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন, কিন্তু তার স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি। ১৬ সেপ্টেম্বর রংপুরের আমলি আদালতে ১২ জন গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কাউকেই পরোয়া করেন না।
আমরা মনে করি, শুধু বদলি বা লোকদেখানো তদন্ত এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নয়। নূরুন্নবী সরকারের মতো কর্মকর্তারা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে ধূলিসাৎ করছেন। যদি অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ মানুষের মাঝে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে ভুল বার্তা যাবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে। জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে মনে রাখতে হবে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা জনগণের সেবক, মালিক নন।
রাণীশংকৈলের এই ‘জমিদারি’ প্রথা বন্ধ হওয়া সময়ের দাবি। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি যদি বজায় থাকে, তবে আগামীর সুশাসন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আমরা আশা করি, প্রশাসন জেগে উঠবে এবং একজন বিতর্কিত কর্মকর্তার হাত থেকে উপজেলাবাসীকে মুক্তি দেবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com