লক্ষ্মীপুরে ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা ‘গিগজ চাউলের মুড়ি’র নামে বাজারে নিম্নমানের ‘বুসিয়ারা’ চাউলের মুড়ি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত উৎপাদকরা।
জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, গিগজ মুড়ি নামে উচ্চমূল্যে যে মুড়ি বিক্রি হচ্ছে, তার একটি অংশ আসলে বুসিয়ারা চাউল দিয়ে তৈরি। দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা সহজে পার্থক্য বুঝতে পারছেন না। ফলে বেশি দামে কিনেও প্রত্যাশিত স্বাদ ও মান পাচ্ছেন না তারা।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমসারাবাদ এলাকার কয়েকজন ঐতিহ্যবাহী মুড়ি উৎপাদক জানান, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হাতে ভাজা আসল গিগজ চাউলের মুড়ি তৈরি করে আসছেন। তাদের দাবি, উৎপাদনের পর আড়ৎ পর্যায়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অন্য চাউলের মুড়ি মিশিয়ে বা সম্পূর্ণ ভিন্ন চাউলের মুড়ি গিগজ নামে বাজারে চালিয়ে দিচ্ছেন।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গিগজ মুড়ির চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় কিছু অসাধু আড়ৎতদার সুযোগ নিচ্ছে। এতে আসল পণ্যের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।”
ক্রেতাদের অভিযোগ, আগে যে স্বাদ ও খাস্তা ভাব পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা মিলছে না। তারা বাজার তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
উৎপাদকদের মতে, দ্রুত বাজার মনিটরিং ও ব্র্যান্ড সুরক্ষার ব্যবস্থা না নিলে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী গিগজ মুড়ির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সচেতন মহল বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।