শীতের শেষ মৌসুম চললেও পবিত্র রমজান মাসের কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে ঐতিহাসিক শহর বাগেরহাটের দর্শনীয় স্থানগুলো। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
সাধারণত শীত মৌসুমের শেষভাগে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা। তবে রমজান শুরু হওয়ার পর ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা একেবারেই কমে গেছে। ফলে ফাঁকা পড়ে আছে ষাটগম্বুজ মসজিদের প্রাঙ্গণ ও খানজাহান আলী (রহ.) মাজার এলাকা।
পর্যটক কমে যাওয়ায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন শ্রমিক, ভ্যানচালক ও স্মারকপণ্য বিক্রেতারাও পড়েছেন আর্থিক চাপে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দর্শনার্থী না থাকায় আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
একজন দর্শনার্থী বলেন, আমরা অন্য সময় বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ও খানজাহান আলী মাজার দেখতে এসেছি। কিন্তু এ বছর রমজানের কারণে দর্শনার্থী কম। এমন পবিত্র স্থানে রোজায় দর্শনার্থী কম হওয়াটা দুঃখজনক।
টুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ শারাফাত জানান, রমজানের কারণে বাগেরহাটে পর্যটকের আনাগোনা কিছুটা কমেছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করছে এবং এখনো কোনো অপ্রতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, বাগেরহাটের স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটক কমে গেলে হোটেল, পরিবহন, খাবার দোকান ও স্থানীয় ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তারা রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে বিশেষ পর্যটন কর্মসূচি ও প্রচারণা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ইতিহাসের গর্ব ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান আলী (রহ.) মাজার আজ যেন নীরব সাক্ষী মানুষের কোলাহলহীন প্রাঙ্গণে শুধু বাতাসের শব্দ আর সময়ের নিঃশব্দ পদচারণা।
রমজানের পবিত্রতায় স্থবির হয়ে থাকা এই ঐতিহাসিক নগরী যেন অপেক্ষায় আবার কখন পর্যটকের ভিড়ে ফিরে পাবে তার হারানো প্রাণচাঞ্চল্য।##