​সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গোলাম হোসেন (৬০) নামের এক ঘের ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জাবাখালি এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নারীসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

​ঘটনার প্রেক্ষাপট

​নিহত গোলাম হোসেন জাবাখালি গ্রামের মৃত হামিজ উদ্দীন মোড়লের ছেলে। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির সামনের চলাচলের রাস্তা দখল করা নিয়ে প্রতিবেশী রেজাউল মোড়ল ও সাইফুল মোড়লদের সাথে গোলাম হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে গোলাম হোসেন বাধ্য হয়ে সাতক্ষীরা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

​যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড

​নিহতের ভাতিজা জাহাঙ্গীর আলম জানান, সম্প্রতি আদালত থেকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি হওয়ায় প্রতিপক্ষরা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। শনিবার সকালে গোলাম হোসেন যখন বাড়ির সামনে কাজ করছিলেন, তখন প্রতিপক্ষরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​৯ জন আটক ও জনরোষ

​হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের ঘরবাড়ি ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযানে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন:

  • ​সেলিম মোড়ল (৫০), সাইফুল মোড়ল (৩৫), ফারুক মোড়ল (৩২), রেজাউল মোড়ল (৪০)।
  • ​মাছুমা বেগম (৩৫), ফাতেমা বেগম (৪০), মাহফুজা বেগম (৩০), জহুরা খাতুন (৩০) এবং সফুরা বেগম (৬৫)।

​পুলিশের বক্তব্য

​শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, রাস্তার জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি জব্দ করেছে।

​তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় শ্যামনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।