1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শেরপুরের ৭ গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত নেত্রকোনায় পাচারের সময় ভিজিএফের চাল জব্দ সীমান্ত যুব উন্নয়ন সংঘ (SZUS) পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরন নাগেশ্বরীতে ভুয়া সাংবাদিক গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন কুরআনের শাসন ব্যতীত জনগনের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়- এড. আব্দুল আওয়াল জামালপুরে সূর্য তোরণ সমাজ সেবা সংস্থা’র পক্ষ থেকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কাঠালিয়ায় প্রেসক্লাবের আয়োজনে অসহায়দের মাঝে শিল্পপতি আরিফ হোসেনের ঈদ উপহার বিতরণ পটুয়াখালী ২২ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ করছেন ঈদুল ফিতর আসন্ন ঈদ উপলক্ষে খাদ্য-সামগ্রী বিতরণ করল ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের প্রতিবন্ধীদেরকে ঈদ সামগ্রী প্রদান

সাপে কাটলে হাসপাতালে যাওয়াই ভালো-ওঝা কাশেম হাজী

আফছার আলী খান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪
  • ২৫২ বার পড়া হয়েছে
রাকিব হাসান (২৮) পেশায় একজন কৃষি শ্রমিক। পাঁচ বছর পূর্বে সকালে ক্ষেতে কাজ করতে গেলে তার পায়ে বিষধর গোমা (গোখরা) সাপ কামড় দেয়। এতে রাকিব ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন। তার স্বজনরা তাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। তাকে নিয়ে যান পাশের গ্রামে কাশেম হাজীর নিকট। স্থানীয় লোকজন তাঁকে ওঝা হিসেবেই জানেন। লোকজন বিশ্বাস করেন কাশেম হাজী সাপের বিষ নামাতে পাড়েন।
রাকিব হাসান বলেন, আমি সাপে কাটার বিষে ব্যথায় ছটফট করছিলাম। এসময় কাশেম চাচা তার রুমালে একটি গিঁট লাগিয়ে দিয়ে দোয়া পড়ে ফুঁক দেন। এতে আমার আস্তে আস্তে ব্যথা কমে যায়। আমি সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছি। আমাকে হাসপাতালে যেতে হয়নি। কিন্তু এখন আর মানুষকে ওঝাদের ওপর ভরসা করতে হয় না। সাপে কাটা রোগীদের সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।
ওঝা মো. আবুল কাশেম (৬৮) দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের পুনট্টি গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে। তিনি উপজেলার গমিরা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী মৌলভী পদে চাকুরি করেন। বর্তমানে তিনি অবসরপ্রাপ্ত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। ছেলেমেয়েদের সবারই বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। রোগীদের মধ্যে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি। রুমালে গিঁট বেঁধে দোয়া-দরুদ পড়লে সাপে কাটা রোগী সুস্থ হয়ে উঠেন। কাশেম হাজী এখন আর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসায় নিজের ওপর ভরসা করেন না। তিনি বলেন-আগের মতো এখন আর গাছগাছড়া নেই, নেই তন্ত্রমন্ত্রের শক্তিও। অবশ্য আগের মতো সাপও দেখতে পাওয়া যায় না। বনজঙ্গলই নেই, সাপ থাকবে কোথায়? এখন সেই ওঝাগিরিও আর নেই। মানুষ বিভিন্ন ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলেছেন। এখন চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক উন্নত হয়েছে। বাড়ির নিকট হাসপাতালেই সাপে কাটা রোগীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। তাই কাউকে সাপে কাটলে ওঝা কিংবা কবিরাজের নিকট না নিয়ে গিয়ে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে পাঠানো উচিত।
তিনি জানান, আমার মামা সাপে কাটা রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করতেন। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি মামার নিকট এ চিকিৎসা বিদ্যা রপ্ত করি। মামার মতোই আমিও বিনা পয়সায় সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা করতাম। আমি রোগীদের ঝাঁড়ফুক কম করি। যাকে সাপে কামড় দেয় তার নামটা আমাকে জানালে আমার সঙ্গে থাকা একটি রুমালে গিঁট দেই, পরে কিছু দোয়া-দরুদ পড়ি। এর কিছু সময়পর রোগী নিজেই তার সুস্থতার কথা জানান। তবে এক্ষেত্রে আমার প্রথম শর্ত হলো অন্য কোনো ওঝা বা কবিরাজের নিকট নেয়ার আগে আমাকে জানালে আমি চিকিৎসা করি। আমার আগে অন্য কোনো ওঝা বা কবিরাজকে জানালা আমি সেই সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা করি না। অনেক ওঝা বা কবিরাজের নিকট গিয়ে সাপে কাটা রোগী মৃত্যুবরণ করেন প্রশ্নে তিনি বলেন, ওঝা বা গুণমান সাপুড়ে এখন আর নেই। যারা রয়েছেন তারা বেশির ভাগই ধান্ধাবাজি করেন। অনেকে আছেন বিদ্যাও শিখেননি। কিন্তু অর্থের জন্য ধান্ধাবাজি শিখেছে। মানুষের জীবন নিয়ে ধান্ধাবাজি সত্যিই ভীষণ কষ্টদায়ক।
তিনি আরো জানান, সকল মানুষের জন্য পরামর্শ থাকবে-ওঝার নিকট না গিয়ে সাপে কাটা রোগীদের যেন সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনামসহ আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। সকল মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করা জরুরি। কারণ গ্রামাঞ্চলে এখনো মানুষ সাপে কাটার কথা শুনলেই আগে ওঝার নিকট ছুঁটে যান। সিনেমার ওঝা আর বাস্তব ওঝার মধ্যে পার্থক্য সাধারণ  মানুষকে বোঝাতে হবে।
পুনট্টি ইউপি সদস্য ও ওঝা কাশেম হাজীর ছেলে গোলাম মাওলা বলেন, আমি বুঝ হওয়ার পর থেকে দেখে আসছি, বাবা সাপে কাটা রোগীকে ভালো করেন। রোগী যেখানেই থাক শুধু নামটা বাবাকে জানালে তিনি আচুলিতে (রুমাল) গিঁট বেঁধে দোয়া পড়ে সাপে কাটা রোগীকে ভালো করেন। তবে এখন আর ওঝা বা কবিরাজের নিকট না গিয়ে সাপে কাটা রোগীকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই ভালো। এতে সাপে কাটা রোগী নিরাপদ।
দিনাজপুরের সিভিল সার্জন এএইচএম বোরহানুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, অ্যান্টিভেনাম এখন জেলার সদর হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যাচ্ছে। সাপে কাটা রোগীদের কোনো ওঝা বা কবিরাজের নিকট না নিয়ে গিয়ে অ্যান্টিভেনাম প্রয়োগ করলে সুস্থ হয়ে যাবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com