1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পানি না নামা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল বন্ধ থাকবে এবার স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের সব রেফারিই আর্জেন্টিনার ইরাকে খামেনির শোক মিছিলে ২৩ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ জুলাইযোদ্ধা হওয়ার প্রায় ২০০টি আবেদনই ভুয়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বরাদ্দ দিতে সংসদ সদস্যদের কাজ করার পরামর্শ স্পিকারের ‘আওয়ামী লীগের একটি অর্গানকেও ফাংশন করতে দেওয়া হবে না’: আবিদুল ইসলাম মাদকের পক্ষে দলের নেতারা তদবির করলে তাদেরসহ গ্রেপ্তার করা হবে: খায়রুল কবির

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও মানব পাচার দমন এবং মানবিক কার্যক্রমে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)’র এক বছরের সাফল্য*

সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ 
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯৩ বার পড়া হয়েছে
সীমান্ত নিরাপত্তায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অবস্থান আপোষহীন। বাংলাদেশ- মায়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জান-মাল সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তে উদ্ভূত বহুমুখী ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাটালিয়নের প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে নিয়োজিত রয়েছে।
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা সীমান্তভিত্তিক মাদক চক্র বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। নাফ নদী, দুর্গম পাহাড়ি পথ ও সেন্টমার্টিন উপকূলীয় নৌপথকে ব্যবহার করে মাদক ও চোরাইপণ্য আনার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন ও নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। এই প্রেক্ষাপটে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন চলতি বছরে সীমান্তবর্তী জনসাধারণের অংশগ্রহণে ১৩৪টি জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে। একই সঙ্গে মাদক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কার্যকরী অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আজ তাই স্থানীয় জনমনে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)  এর প্রতি গভীর আস্থা তৈরি হয়েছে। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির  বাস্তবায়নে  অপরাধ দমন এবং মাদক সন্ত্রাসসহ সীমান্ত সুরক্ষায় টেকনাফ ব্যাটালিয়নের আভিযানিক সাফল্য অভাবনীয়। গেলো এক বছরে ৫৮,১৮,৪৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫.২৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ১৬ টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬৯ টি হাতবোমাসহ অন্যান্যে মালামাল জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০৫ কোটি টাকারও অধিক। এসকল অভিযানে সর্বমোট ১৩০ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে, যা সীমান্তে মাদক দমনে ২ বিজিবি’র কঠোর অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রমাণ।মায়ানমারে আটক বাংলাদেশি জেলেদের উদ্ধারেও টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জানুয়ারি ২০২৫ থেকে অদ্যাবধি আরাকান আর্মি কর্তৃক মায়ানমারে আটক ১২৪ জন জেলেকে টেকনাফ ব্যাটলিয়নের প্রত্যক্ষ উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ফলে সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অন্যান্যদেরকেও নিরাপদে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও, গৃহযুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির আক্রমণের ফলে ঐ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও মায়ানমার সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে  ৫১৫ জন  সদস্য নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক এবং যথাযথ নিয়মে উক্ত সদস্যদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হয়।
একইসাথে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন মানব পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধেও কার্যকর ও অসামান্য ভূমিকা পালন করছে; চলতি বছরে টেকনাফের বিভিন্ন স্থান হতে ৪১৪ জন মানব পাচারের শিকার ভূক্তভোগীদের উদ্ধারের পাশাপাশি এ যাবৎ মানব পাচার চক্রের মোট ৯৮ জন সক্রিয় সদস্যকে বিভিন্ন অভিযানে আটক করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়।  এছাড়াও, নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)  প্রতিনিয়ত অসংখ্য অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা প্রতিহত করে যাচ্ছে,  যা ২ বিজিবি এর পেশাদারিত্ব, গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক সক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। সীমান্ত এলাকার মানুষের আস্থা অর্জনে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন নিয়মিত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতেও কার্যক্রম পরিচালনা করে  আসছে। চলতি বছরে আনুমানিক ১৪০০-১৫০০ জন প্রান্তিক জনসাধারণকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান, পিএসসি এর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত ৫২৫ টি গরীব, অসহায় ও দুঃস্থ জনসাধারনের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। তাছাড়া, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী অসহায় ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর স্বস্ব ধর্মীয় উৎসবসমূহকে আরও সুন্দর, মর্যাদাপূর্ণ ও আনন্দময় করে তুলতে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) কর্তৃক নিয়মিতভাবে খাদ্য সামগ্রী, পোশাক এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের জনসাধারনের কাছে টেকনাফ ব্যাটলিয়ন (২ বিজিবি) নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে বর্তমানে পরিগনীত।
বর্তমানে নিরাপত্তা আরও সুসংহত ও কার্যকর করতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নে (২ বিজিবি) ধারাবাহিকভাবে জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজন করা হয়েছে। সীমান্তের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় নতুন নতুন বিওপি স্থাপনের মাধ্যমে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা বলয়কে সম্প্রসারিত করা হয়েছে এবং দুর্গম, অপরাধপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহে অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ পোস্ট (টিওবি) স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে সীমান্তে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ও নজরদারি সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নাফ নদী ও উপকূলীয় সীমান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে ড্রোন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে, সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্তে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন একটি শক্তিশালী, বহুমাত্রিক ও টেকসই প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে, যা আন্তঃ রাষ্ট্রীয় অপরাধ প্রতিরোধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।এ বিষয়ে, টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আশিকুর রহমান, বিজিবিএম, পিএসসি বলেন, “সীমান্তাঞ্চলে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। যা, স্থানীয় জনমনে গভীর আস্থা ও ইতিবাচক মনোভাবের সঞ্চার ঘটিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মানব ও মাদক পাচারসহ সকল প্রকার আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি’র এই বলিষ্ঠ ও কার্যকর ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এই প্রয়াসে গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি।”
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com