শিক্ষা প্রতিটি শিশুর সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই দেশ এগিয়ে চলেছে। অথচ বগুড়ার সোনাতলা পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডে জন্ম সনদ জটিলতায় দুই শিশুর শিক্ষাজীবন থমকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ ফেরোজা বেগমের ছেলে ফেরদৌস আলম বাবুর দুই সন্তান স্থানীয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুড মর্নিং কেজি স্কুল-এ অধ্যয়নরত ছিল। তারা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিলেও নির্ধারিত ফি পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় পরীক্ষার পর থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আর্থিক সংকটের কারণে তাদের দাদী অর্থের ব্যবস্থা করতে পারেননি।
শিশুদের দাদী ফেরোজা বেগম আক্ষেপ করে বলেন,
আমার নাতি-নাতনিরা নিয়মিত স্কুলে যেত। আমরা গরিব মানুষ, তাই বেসরকারি স্কুলে পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি স্কুলে ভর্তি করাতে গেলে জন্ম সনদ চাওয়া হয়। জন্ম নিবন্ধনের জন্য বহুবার পৌরসভায় গেছি। সেখানে বলা হয়েছে বাবা-মায়ের জন্ম সনদ লাগবে, বাড়ির ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। আমরা রেলের জায়গা লিজ নিয়ে থাকি, বছরে খাজনা দিই। আবার পৌরসভায় ট্যাক্স কীভাবে দেব? জন্ম সনদ তোলা যেন সন্তানের জন্ম দেওয়ার চেয়েও কঠিন হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, শিশুদ্বয়ের মা তালাকপ্রাপ্ত এবং বাবা জীবিকার তাগিদে বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা তাদের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো শিশুকে শুধুমাত্র জন্ম সনদ বা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিদ্যালয় থেকে বঞ্চিত করা মানবিক ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তারা বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা বা অভিভাবকের সীমাবদ্ধতার দায় শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে সোনাতলা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাহানাজ পারভীন মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ করেননি।
এঘটনায় এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং শিশু দু’টির পুনরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা হোক। তাদের ভাষায়, শিক্ষা থেকে একটি শিশুকে দূরে ঠেলে দেওয়া মানে তার স্বপ্নকে থামিয়ে দেওয়া।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি এলাকাবাসীর আহ্বান, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনা করে শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা দরকার।