দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে হলুদ সরিষার ফুলে রঙিন হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুর। চোখ যতদূর যায়, শুধু হলুদের ঢেউ। সরিষার বাম্পার ফলনে এবার আশার আলো দেখছেন জেলার হাজারো কৃষক।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, সদর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সরিষা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে ভরা। শীতের শিশিরে ভেজা ফুলের ঘ্রাণ আর মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখর চারপাশ। যেন প্রকৃতি নিজেই উৎসবে মেতেছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রায়পুর উপজেলাতেই ৭২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন।
“আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষা আবাদ করি। খরচ কম, সেচ লাগে না, সময়ও কম লাগে। প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাভ হয়।”
কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া, কম উৎপাদন খরচ এবং কৃষি বিভাগের বীজ ও সার সহায়তার কারণে এবার ফলন ভালো হয়েছে। নদী অববাহিকা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সরিষা চাষ বাড়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি এসেছে।
সরিষার তেল শুধু রান্নায় নয়, রয়েছে নানা ওষুধি গুণ। এর খৈল পশুখাদ্য ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়। এমনকি সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবেও কাজে লাগে।
সাউন্ডবাইট (কৃষি কর্মকর্তা – সালাহ উদ্দিন):
“এবার আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার দিয়েছি। বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেশি থাকায় সরিষার দামও ভালো থাকবে বলে আশা করছি।”