1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
  2. bot@local.invalid : Service Bot :
  3. infoobayed@gmail.com : infoobayed :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন

১৩৫০ টাকার সার ১৭০০ টাকায় কিনছেন কৃষকরা, সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা?

Desk report
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী অঞ্চলে গত দুই সপ্তাহ ধরেই সার বিক্রিতে নৈরাজ্য চলছে। ডিলাররা সার বরাদ্দের আগেই বরাদ্দপত্র বিক্রি করে দিচ্ছেন কালোবাজারিদের কাছে। এখন গুদাম থেকে সার তুলে দোকানে নেওয়ার আগে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। কেউ আবার এক জেলার সার আরেক জেলায় চালান করে দিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পুরোটাই চলছে রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন লাখো কৃষক। ফলে ১৩৫০ টাকার টিএসপি সার ১৮০০ টাকা কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। পাশাপাশি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে মনিটরিং ব্যবস্থা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী অঞ্চলজুড়ে আমন রোপণে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই গ্রামের পথে পথে শুরু হয় কৃষকদের কর্মযজ্ঞ। কেউ কাঁধে ধানের চারা, কেউ ট্রাক্টর নিয়ে জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত। আবার কোথাও নারী-পুরুষ একসঙ্গে কোমর পানিতে নেমে সারিবদ্ধভাবে আমনের চারা রোপণ করছেন। গ্রামীণ জনপদজুড়ে এখন আমন রোপণের ব্যস্ততা। কিন্তু আমন রোপণর মধ্যেও নির্ধারিত দামে মিলছে না সার। ভর্তুকির সারও লাগালের বাইরে চলে গেছে কৃষকদের।

আমন মৌসুমে সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়েও কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। তবে অনুমোদিত ডিলাররা দাবি করছেন, সরবরাহ পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে সারের। এজন্য কেউ কেউ দাম বেশি নিচ্ছেন।

জানা গেছে, বেশিরভাগ অনুমোদিত ডিলারের কাছে ভর্তুকির সার পাওয়া যাচ্ছে না। খুচরা বিক্রেতারা প্রকাশ্যে চড়া দামে সেই একই সার বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে বিএডিসি রাজশাহী শাখার সহকারী পরিচালক (সার). নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিএডিসি কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত পরিমাণ অনুযায়ীই কঠোরভাবে সার বিতরণ করেছে। আমরা শুধু মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত পরিমাণই সরবরাহ করি। কিছু কৃষক সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি সার প্রয়োগ করায় চাহিদা বেড়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, ‘সারের ঘাটতি নিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে কোনও অভিযোগ পাইনি আমরা। তবে সব জায়গায় আমন রোপণ চলছে। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি, এবারও আমনের ফলাফল ভালো হবে।’

জেলা সার বিতরণ কমিটির প্রধান এবং জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সারের দাম বেশি এই অভিযোগ কোনও কৃষক করেননি। তবে আমি এই বিষয়ে খোঁজ নেবো। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।’

সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ৫০ কেজির এক বস্তা ট্রিপল সুপার ফসফেট বা টিএসপি ১৩৫০ টাকায় এবং ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি ১০৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে কৃষকরা বলছেন, অনুমোদিত ডিলারদের কাছে না পাওয়ায় তারা টিএসপি ১৮০০ টাকা এবং ডিএপি ১৬০০ টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিলাররা দোকান খোলার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মজুত শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়ে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় তারা ক্যাশ মেমো দিতে অস্বীকার করছেন। এখানে বড় ধরনের সিন্ডিকেট কাজ করছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com