1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

নব গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জট

আনিসুল হক সুমন, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা প্রতিনিধ
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৩৫৯ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সানজিদা আক্তার (১৭) নামে এক নব গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার বিকেলে নিজ বাবার বাড়ি পৌর শহরের সাধুপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে স্বামীর খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত সানজিদা আক্তার দুর্গাপুর পৌরশহরের বাগিচাপাড়া এলাকার আলামিন আকন্দের স্ত্রী। আর সাধুপাড়া এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৬ মাস পূর্বে একই শহরের বাগিচাপাড়া এলাকার আলামিন আকন্দের সঙ্গে সানজিদার বিয়ে হয়। তাদের বিয়ে ছিল নিজেদের পছন্দের। তবে বিয়ের ২ মাস পর থেকেই সানজিদা স্বামী নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। তার স্বামী অটো রিক্সা চালাতেন। গত রাতে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে সে-সময় মারধরের শব্দ পেয়ে বড় মেয়েকে পাঠিয়ে ঝগড়া থামান সানজিদার মা। পরে সকালে আবারও দরজা বন্ধ করে ঝগড়া শুরু হলে তিনি গিয়ে দরজা খুলতে বললেও দরজা খুলেনি তারা। কিছুক্ষণ পরে মেয়ের জামাই আলামিন সবার অগোচরে ঘর থেকে বের হয়ে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা দুপুরের দিকে ঘর থেকে সানজিদার নিথর দেহ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সানজিদার মা জাহানারা বেগম বলেন,সকালে ঝগড়ার পরে আমার মেয়ে আর ঘর থেকে বের হয় নাই। সে অসুস্থ তাই ভেবেছি ঘুমাচ্ছে পরে যখন সকাল পেরিয়ে দুপুর হলেও তার সাড়া শব্দ নেই। তখন ঘরের ভিতরে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে ডাক দিলেও সাড়া নেই । তারপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার বলে আমার মেয়ে মারা গেছে।
সানজিদার মায়ের নিকট দুইজনের ঝগড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন,জামাই মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করেছে আর ঋণ করে বিয়ে করেছে। কয়েকদিন ধরে মেয়ের গয়না নিতে চাইতেছে আমাদের ধারণা এইগুলো নিয়েই হইত ঝগড়া ।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ওসি উত্তম চন্দ্র দেব বলেন,যতটুকু সংবাদ পেয়েছি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। ঘটনার পরে স্বামীর কোন খোঁজ মেলেনি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি তদন্তধীন আছে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com