উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রায় সরকারি খাল দখল করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের জেলেখালী খালের পাড়ে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে শত শত কৃষক তাদের অস্তিত্ব রক্ষার দাবি জানান।
বক্তাদের অভিযোগ, বাগালী ইউনিয়নের উলা বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম ‘জেলেখালী খালটি’ প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘ দিন ধরে দখলে রেখেছে। উলা গ্রামের আনার খাঁর পুত্র আলামিন ও হামিদ খাঁসহ একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী খালের বিভিন্ন অংশ মাটি ভরাট করে স্থায়ী স্থাপনা তৈরির পাঁয়তারা করছে। ফলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামনের বোরো মৌসুমে সেচ কাজ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দুই গ্রামের চাষিরা।
শনিবারের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উলা ও কুশোডাঙ্গা গ্রামের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে কৃষক নেতারা বলেন:
”খালটি আমাদের লাইফলাইন। অথচ প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জায়গা দখল করে আমাদের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে শত শত একর জমির বোরো চাষাবাদ ভেস্তে যাবে। আমরা না খেয়ে মরব।”
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় কৃষক আবু বকর গাজী, সোলাইমান হোসেন, আবু ইসা, মো. ইদ্রিস মোল্যা এবং নারী নেত্রী মাহমুদা খাতুন। তারা অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালের পানি প্রবাহ সচল করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে খালটি দখলমুক্ত করা না হয়, তবে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় কেবল কৃষিকাজ নয়, বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও করছেন পরিবেশবাদীরা।
কয়রা উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই এখন এই অঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র ভরসা।