রাজবাড়ী জেলার পদ্মা নদীর তীরে বন্যা পরবর্তী সময়ে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে আগাম ও উন্নত জাতের টমেটো চাষ করে বাম্পার ফলনের দেখা মিলেছে। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও পরিকল্পিতভাবে আগাম টমেটো আবাদ করেন। ফলন ও বাজারদর—দুটিই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফিরেছে হাসি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই টমেটো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চরাঞ্চলে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনায় উন্নত ও হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে টমেটোর ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হাইব্রিড জাতের টমেটো চাষে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। তবে ফলন মিলেছে বিঘাপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ মণ পর্যন্ত। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে টমেটো বিক্রি করতে পারছেন।
চরাঞ্চলের কৃষক শুকুর আলি জানান, এবার মাচা পদ্ধতিতে হাইব্রিড বিউটি প্লাস টমেটো চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পাচ্ছি। আধুনিক পদ্ধতিতে পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করেছি, লাভের আশা করছি।
আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ৭ বিঘা জমিতে আগাম হাইব্রিড বিউটি প্লাস টমেটো আবাদ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, দামও সন্তোষজনক। এতে আমরা অনেকটাই লাভবান হচ্ছি।
গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাওয়াজানি গ্রামের কৃষক সোবান শেখ বলেন, এ বছর টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলোর ফাঁদ ব্যবহার করে পোকা দমন করেছি। ভালো দাম পেয়ে আমরা খুশি।
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার জানান, চলতি বছরে উপজেলায় ২১৬ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের টমেটো আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষকদের সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা দমন, উন্নত জাত নির্বাচন, সুষম সার ও কীটনাশক ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই কৃষকরা ভালো ফলন ও দাম পাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজবাড়ীর চরাঞ্চলে উৎপাদিত টমেটো দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।