সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ওফাপুর গ্রামে সাতরাতের আঁধারে বাঘের দেখা মেলায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আজ (২১ ডিসেম্বর, ২০২৫) রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ১২নং যুগিখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ওফাপুর গ্রামের আলমগীর সরদারের (আমিন) বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাত ৩টার দিকে গোয়াল ঘরে ছাগলের অস্বাভাবিক ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায় গৃহকর্তা আলমগীর সরদারের। চোর এসেছে ভেবে তিনি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু মুরগির খোপের (কোটা) দিকে তাকাতেই তার পিলে চমকে যায়। তিনি দেখতে পান একটি বাঘের মতো প্রাণী খোপের ভেতর ঢোকার চেষ্টা করছে।
সাহস হারাননি আলমগীর। তিনি দ্রুত একটি বড় বস্তা নিয়ে মুরগির খোপের মুখ আটকে দেন। এতে প্রাণীটি ভেতরে আটকা পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভোর হওয়ার সাথে সাথেই আলমগীর হোসেনের বাড়িতে হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় জমে। এলাকাবাসীর মধ্যে অনেকে একে ‘চিতাবাঘ’ বলে দাবি করায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কলারোয়ার সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) বিষয়টি অবহিত করেন। ইউএনও মহোদয় তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে খবর দেন। বন বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য রওনা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারী করা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি আসলে কোনো রয়েল বেঙ্গল টাইগার বা চিতাবাঘ নয়, বরং এটি একটি ‘মেছোবাঘ’ (Fishing Cat)।
পার্থক্য বুঝে নিন:
বিশেষ অনুরোধ: মেছোবাঘ একটি বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী। লোকালয়ে চলে আসলেও এটি মানুষের জন্য সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তাই অযথা আতঙ্কিত হয়ে বা গুজব ছড়িয়ে বন্যপ্রাণী হত্যা করবেন না। বন্যপ্রাণী রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
প্রশাসন ও বন বিভাগ থেকে উৎসুক জনতাকে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।