প্রথমত একটি উসূল বুঝতে হবে যে, কুরআন পড়ার নিয়ম আর আযান এর নিয়মের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। কুরআন তিলাওয়াতের তাজবীদের উপর ভিত্তি করে আযানের তাজবীদও এমন, তা বলা যায় না। আযান, যিকির, দোয়া, নেদা (আহবান) এগুলোর নিয়ম কেরাতের নিয়ম থেকে ভিন্ন। আরবদের অভ্যাসই এমন।
(আল-ইতক্বান ফি উলূমিল কুরআন-১/৯৭, আন-নাশর ফিল কিরাআতিল আশার-২/২৬৯, বিন্নুরীটাউন করাচী ফতোয়া-144206201020)
আযানের মধ্যে আল্লাহ শব্দটির মদ্দকে মদ্দে তাযীম বলে। (জাওয়াহিরুত তাজভীদ, তুহফায়ে নাদরিয়্যাহ)
কেরাতের উপর কিয়াস করে আযানের আল্লাহ শব্দকে পাঁচ আলিফ পর্যন্ত টানা যায়। (আন-নাশর ফিল কিরাআতিল আশার-১/২৫৪)
তবে কারো মতে সাত আলিফ পর্যন্ত টানা যাবে। (মিফতাহুল কামাল শরহে তুহফাতুল আতফাল, পৃ:৬৬)
তবে আযানের ঘোষণা প্রদানের উদ্দেশ্যকে পূর্ণভাবে হাসিল করার জন্য এবং ‘উমুম-এ বালওয়া’ (ব্যাপকভাবে প্রচলিত থাকা)-কে বিবেচনা করে কিয়াসকে (তুলনাকে) ছেড়ে দেওয়া হবে এবং এই অতিরিক্ত দীর্ঘ করা ততক্ষণ পর্যন্ত জায়েজ গণ্য করা যেতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই শব্দগুলি আরবী ব্যাকরণের সীমা থেকে বেরিয়ে না যায়।
(ফাতাওয়ায়ে জামি’আহ বিন্নুরী টাউন করাচী, (অপ্রকাশিত), ওয়েব ভার্সন-144206201020)
আর এটা তো স্পষ্টই যে, যেখানে আল্লাহ শব্দেই এতোটা টানা বৈধ, সেখানে অন্যান্য শব্দগুলোতে টানা উত্তরমরূপে বৈধ।
বিশেষ করে হাইয়া আলাস সলাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহতে তাগান্নি বা বেশি সুর দেয়া বৈধ। (ফাতাওয়ায়ে শামী-১/৩৮৭)
এমন টানাকে তারাসসুল বলে। আমাদের হানাফীদের ফিকহের কিতাবে তারাসসুল বৈধ হবার ব্যপারটি স্পষ্ট। যেমন: আল-বাহরুর রায়েক এ বলা হয়েছে,
ویترسل فیه ویحدر فیھا، وفسر الترسل في’’ الفوائد‘‘ بإطالة کلمات الأذان ، والحدر قصرھا، ولأنّ المقصود من الأذان الإعلام والترسل بحاله ألیق.‘‘
“এবং আযানে ‘তারসসুল’ করা হবে এবং ‘হাদর’ করা হবে। আর ‘আল-ফাওয়ায়েদ’ গ্রন্থে ‘তারসসুল’ এর তাফসীর করা হয়েছে আযানের শব্দগুলোকে দীর্ঘ করা দ্বারা, আর ‘হাদর’ হলো সেগুলোকে সংক্ষিপ্ত করা। আর কারণ হলো, আযানের উদ্দেশ্য হলো ‘ইলম’ (জানানো/ঘোষণা করা) এবং ‘তারসসুল’ এই অবস্থার সাথে বেশি মানানসই।”
(আল-বাহরুর রায়েক-১/২৫৭)
তারাসসুল সুন্নাত। চার মাযহাব একমত। (আল-মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাতিল কুয়েতিয়্যাহ-৪/৬)
হানাফী: তাবয়ীনুল হাকায়েক-১/৯১, ফাতহুল কাদীর-১/২৪৪
শাফেয়ী: আল-মাজমূ’-৩/১০৮, আল-হাভীল কাবীর-২/৫৭
মালেকী: মাওয়াহেবুল জলীল-২/৯১, শরহে মুখতাসারে খলীল- ১/২৩০
হাম্বলী: কাশশাফুল কুনা-১/২৩৮, আল-মুগনী-১/২