1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট পিরোজপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত খামারকান্দিতে খাল খনন প্রকল্প পরিদর্শনে বগুড়ার জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভা এলজিইডি কর্মকর্তাকে মারধর: বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি ‘গুম নাটকের’ সমন্বয়ক বেল্লালের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ পাহাড় ধস ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে বাড়ি দেবে সরকার ফেনীতে শহীদ শ্রাবণের কবর জিয়ারত করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি ইরাকে অতিরিক্ত জনসমাগমে পিছিয়ে গেল খামেনির দাফন

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির বড় সাফল্য

মোঃ সাঈদ হাসান (সুজন)
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২০৫ বার পড়া হয়েছে

 দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় মাদকের ভয়াবহ সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৩৩ বিজিবি)। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রইচপুর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযানে প্রায় ২১ কোটি ২৬ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা মূল্যের প্রাণঘাতী মাদক ‘আইস’ বা মেথামফেটামিন উদ্ধার করেছে বিজিবির একটি চৌকস টিম।

​অভিযানের বিবরণ

​বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে রইচপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযান চলাকালীন একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে চালক আতঙ্কিত হয়ে ব্যাগ ও মোটরসাইকেল ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়:

  • ৪ কেজি ২৫০ গ্রাম আইস (মেথামফেটামিন)
  • ৪০ বোতল উইনসারেক্স (Wincerex) সিরাপ
  • একটি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল

​বিজিবির ভাষ্য

​সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, জব্দকৃত মাদকদ্রব্যগুলো বর্তমানে ব্যাটালিয়নের সিজার স্টোরে সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে এগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হবে।

​পর্দার আড়ালে মাদক সিন্ডিকেট: গভীর উদ্বেগ

​বিজিবির এই বড় সাফল্য প্রশংসিত হলেও সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, জব্দকৃত এই বিপুল পরিমাণ মাদক মোট প্রবাহের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:

  1. রুট ও কৌশল: ভোমরা, কাকডাঙ্গা, ঝাউডাঙ্গা ও রইচপুর পয়েন্টগুলো এখন মাদকের প্রধান করিডোরে পরিণত হয়েছে। জঙ্গল, নদী ও জনবসতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারীরা।
  2. অধরা গডফাদার: অধিকাংশ অভিযানে বাহক ধরা পড়লেও বা মালামাল জব্দ হলেও মূল হোতারা (গডফাদার) রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
  3. সামাজিক প্রভাব: সহজ আয়ের লোভে সীমান্ত এলাকার বেকার যুবকরা বাহক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে নিজেরাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে জেলায় চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

​বর্তমান দাবি ও সমাধান

​মাদকের এই ভয়াবহ স্রোত রুখতে জেলাবাসী ও বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন:

  • প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: সীমান্তে সিসিটিভি ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
  • যৌথ টাস্কফোর্স: বিজিবি, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন।
  • শূন্য সহনশীলতা: রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে মূল সিন্ডিকেটের আর্থিক উৎসে আঘাত করা।

​মাদক চোরাচালান কেবল সীমান্ত অপরাধ নয়, এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। সময়োপযোগী পদক্ষেপ না নিলে সাতক্ষীরাসহ পুরো দেশ এক ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com