1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ ৩১ আগস্ট পিরোজপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত খামারকান্দিতে খাল খনন প্রকল্প পরিদর্শনে বগুড়ার জেলা প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভা এলজিইডি কর্মকর্তাকে মারধর: বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি ‘গুম নাটকের’ সমন্বয়ক বেল্লালের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে থানায় নোয়াখালীর তরুণ পাহাড় ধস ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে বাড়ি দেবে সরকার ফেনীতে শহীদ শ্রাবণের কবর জিয়ারত করলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি ইরাকে অতিরিক্ত জনসমাগমে পিছিয়ে গেল খামেনির দাফন

সিরাজগঞ্জ দরগা রোডে এলিট টাওয়ার—দুর্নীতি, ঘুষ ও জননিরাপত্তার ভয়াবহ ঝুঁকি

মোঃ আবুসুফিয়ান তালুকদার
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৩৯ বার পড়া হয়েছে
সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র দরগা রোডে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এলিট টাওয়ার এখন কেবল একটি ভবন নয়—এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক দুর্নীতি, ঘুষ লেনদেন ও আইনের প্রকাশ্য অবমাননার এক ভয়ংকর নিদর্শন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে প্রভাবশালী একটি চক্র পুলিশি ক্ষমতা ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ৬ তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। এই চক্রে রয়েছেন সিরাজগঞ্জ এসপি অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট খাদেমুল ইসলাম, হিসাব রক্ষক হেদায়েত উল্লাহ,গং সহ একাধিক ব্যক্তি।
কোটি টাকার নির্মাণ, আয়ের উৎস অজানা
এলিট টাওয়ার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু এই বিপুল অর্থের বৈধ উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসপি অফিসের হিসাব রক্ষক হেদায়েত উল্লাহর নামে ও তার স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়াও তাদের নামে-বেনামে আরও অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
ঘুষ ছাড়া অনুমোদন নয়?
ভবন মালিক রজব আলী নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঢাকা ফায়ার সার্ভিসে ঘুষ দেওয়ার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ, জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার সেফটি ছাড়পত্রও ঘুষের বিনিময়ে আদায় করা হয়েছে বলে প্রশ্ন উঠছে।
দীর্ঘ চার বছর ধরে পৌরসভা ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলেও রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সরকারি প্রতিবেদনে ধরা পড়লেও থামেনি অবৈধতা
পৌর নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ আনিসুর রহমান এপ্রিল ২০২২ সালে দেওয়া প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এলিট টাওয়ার নির্মাণে সেটব্যাক রুলস লঙ্ঘন করা হয়েছে। এরপরও অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হয়নি।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৌর মেয়র নকশা বহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ ৮ তলা ভবন অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ আজও কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
ভূমিকম্পে মৃত্যুপুরী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটব্যাক ও নকশা লঙ্ঘন করে নির্মিত এই ভবনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনটি ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই ঝুঁকির দায় নেবে কে?
প্রশ্ন প্রশাসনের দিকে
অবৈধ নির্মাণের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো কোথায় ছিল?
ঘুষ ও প্রভাবের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন কোনো তদন্ত হয়নি?
মেয়রের অপসারণ নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে কারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে?
সচেতন মহলের মতে, এলিট টাওয়ার ইস্যু শুধু একটি ভবনের নয়—এটি দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার নগ্ন চিত্র। অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এমন অবৈধতা আরও উৎসাহ পাবে।
জননিরাপত্তা ও আইনের শাসন রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com