ভোটের রাজনীতির নামে মূর্তি পাহারা বা পূজায় অংশগ্রহণ নয়—রাষ্ট্র দেবে নিরাপত্তা, ইসলামি আদর্শে রাজনীতির আহ্বান
সোনাগাজীতে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ড. মাওলানা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী বলেছেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের সঙ্গে মুসলমানদের সম্পর্ক হবে মানবিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ।
তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের সীমারেখা অতিক্রম করে মূর্তিপূজায় অংশগ্রহণ বা মূর্তি পাহারা দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড ইসলামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; মুসলমানরা কারও পূজায় যাবে না, আবার কারও উপাসনালয় বা প্রতীক ভাঙচুরও করবে না।
সোমবার বিকেলে সোনাগাজী সরকারি মোহাম্মদ ছাবের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সোনাগাজী মারকাযুল কোরআন হিফয মাদরাসার হাফেজদের গাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাওলানা এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী বলেন, ইসলামে সহাবস্থান আছে, তবে বিশ্বাসে আপস নেই। হযরত ইব্রাহিম (আ.) মূর্তিপূজা থেকে মানুষকে দূরে রাখতে মূর্তি ভেঙেছিলেন—আজ ভোটের রাজনীতির কারণে সেই মূর্তি পাহারার নামে নাটক করা হচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানেরা তাদের ধর্ম পালন করবেন—এটি তাদের স্বাধীনতা। রাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা দেবে। মুসলমানরা কারও পূজায় যাবে না, আবার মূর্তিও ভাঙবে না।”
রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতি তোষামোদ নয়; আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে হবে। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে রাজনীতি হলেই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। হারাম জেনেও তা গ্রহণ করলে তা জেনেশুনে হারাম গ্রহণের শামিল—ভোটের অঙ্কে পড়ে ধর্মীয় সীমা লঙ্ঘন করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন রয়েছে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, আধিপত্যবাদী আচরণ ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের অভিযোগ তুলে তিনি মুসলমানদের শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান
একই সঙ্গে তিনি বলেন, দুই-চারটি ভোট বা নগদ সুবিধার বিনিময়ে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।
ইসলামের মৌলিক শিক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদেশ-নিষেধ ও বিধান অনুসরণই ইসলাম।
শেষ নবীর রেখে যাওয়া জীবনবিধান কেয়ামত পর্যন্ত প্রযোজ্য। অতীত নবীদের সময়কার বিধান যেমন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ছিল, তেমনি ইসলামের বিধান সর্বকালের জন্য—এ কথাও তিনি ব্যাখ্যা করেন।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বক্তা বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্যেও পবিত্র বায়তুল মাকদাসের মর্যাদা রক্ষায় ফিলিস্তিনিরা যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা থেকে মুসলমানদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু আলেমকে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মুসলমানরা নিপীড়নের শিকার হয়েছে
সংস্কৃতি ও বাকস্বাধীনতা বিষয়ে তিনি বলেন, ইসলামে গান-বাজনা হারাম—তবে যারা গান করেন, তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
কিন্তু বাকস্বাধীনতার নামে মহান আল্লাহর শানে অবমাননা কোনো মুসলমান মেনে নেবে না। তিনি ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইসলামের নামে সুফিবাদের স্থান নেই এবং ইসলাম গ্রহণের পর অন্য ধর্মের অনুশীলন থেকে ইসলামের জন্য কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মারকাযুল কোরআন হিফয মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা বেলায়েত হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার আরবি অধ্যাপক মাওলানা আবুল কাসেম। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত ও শেষে হাফেজদের গাগড়ি প্রদান করা হয়।