আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৬ হতে
বিগত ২৮ আগস্ট ২০১৯ইং তারিখে জারীকৃত স্মারক নং-আর-৬/৭৭৭-৪০/২০১৫(বিবিধ)-৩৮৯, বিগত ২৯/০৪/২০১৫ইং তারিখের স্মারক নং-আর-৬/৭৭৭-৪০/২০১৫-১৭৫ এবং বিগত ২১/০৩/২০১৭ খ্রি তারিখের স্মারক নং-আর-৬/৭৭৭-৪০/২০১৫-১৫৫ এর প্রেক্ষিতে নোটারী এ্যাডভোকেট ও এফিডেভিট/হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে বিবাহ পড়ানো ও তালাক নিবন্ধন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যাহা এখনো বিদ্যমান। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও অবৈধ বিবাহ ও তালাক কার্যক্রম বন্ধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৬ থেকে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে মাধ্যমে তা জনস্বার্থে অবগত ও প্রচার করা হয়েছিল দেশের প্রতিটি জেলায়। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের উদ্যোগে ১৯ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল যে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন ১৯৭৪ অনুযায়ী বিবাহ ও তালাকের জন্য প্রস্তাব ও গ্রহণ, কমপক্ষে দুইজন সাক্ষী এবং দেনমোহর থাকা আবশ্যক। এসব উপাদানের কোনোটি অনুপস্থিত থাকলে বিবাহ ও তালাক আইনত বৈধ হয় না। এছাড়া The Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 অনুযায়ী প্রত্যেক মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক এবং এই নিবন্ধনের এখতিয়ার একমাত্র নিকাহ রেজিস্ট্রারের। কিন্তু, দূঃখ্যজনক হলেও সত্য যে, আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নোটারী এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণার স্বত্ত্বেও অদ্যবধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কতিপয় নোটারি পাবলিকগণ জনসাধারণে আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগের অপব্যবহার করে কেবলমাত্র আর্থিক প্রলোভোনে প্রলুব্ধ হয়ে এমন আইন বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। নোটারী এ্যাডভোকেটগণ ঘোষণাপত্র ভিত্তিক এফিডেভিটের মাধ্যমে যেসকল তথাকথিত বিয়ে ও তালাক সম্পাদন করছেন, যা আইনসম্মত নয়। এতে একদিকে বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বিয়ে বা তালাক নিবন্ধন না হওয়ায় তার কোনো আইনগত সুরক্ষা থাকছে না। উক্ত কারণে বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত প্রতারণা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই প্রেক্ষাপটে আইন মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, নোটারি পাবলিক কর্তৃক এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো কিংবা তালাক নিবন্ধন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে সকল জেলা জজ, জেলা প্রশাসক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট নোটারি পাবলিকদের অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনাকে বাল্যবিবাহ ও অবৈধ বিবাহ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছিলেন সংশ্লিষ্ট মহল এবং এটি সারাদেশে আলেড়োন সৃষ্টি করেছিল। প্রায় ১০ বছর পূর্বে আইন মন্ত্রণালয়ের বিচার বিভাগ শাখা-৬ হতে স্পষ্টভাবে এই বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হলেও কতিপয় নোটারি পাবলিকগণ এই সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করে এখনো এফিডেভিট/হলফনামার মাধ্যমে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন করে আসছেন যাহা এই দেশের বিচার বিভাগের প্রতি অবমাননা এবং ইচ্ছাকৃত আইন বিরোধী সংক্রান্ত ফৌজদারী অপরাধ। এই ধরণের অপকর্ম ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয়, ব্যক্তির আত্মমর্যাদায় আঘাত এবং ইজ্জত ও সম্ভ্রম নষ্টের মতো জঘন্য অনাচার যাহা কোন জাতি ও সম্প্রদায় অনুমোদন করে না। এই প্রজ্ঞাপনটি পুণরায় প্রচার ও বাস্তবানয়নে আইন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মহোদয় এবং আইন ও বিচার বিভাগের সকল কর্মকর্তাগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে।