শীতের সকালে যখন শান্তির পরশ থাকার কথা, তখন সাতক্ষীরার রাজপথ প্রকম্পিত হলো এক পৈশাচিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে। গাজীপুরে আগুনে পুড়িয়ে মারা শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস আর লক্ষ্মীপুরের সেই ছোট্ট শিশু আয়েশার নিথর দেহ যেন আজ সাতক্ষীরাবাসীর বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই দুই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিবেকের তাড়নায় রাজপথে সাধারণ মানুষ
সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কেবল সংগঠন নয়, যোগ দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষও। হাতে ব্যানার আর চোখে প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। ব্যানার জুড়ে ছিল শিশু আয়েশা আর শ্রমিক দিপু দাসের ছবি—যা দেখে উপস্থিত অনেকের চোখেই জল নেমে আসে।
বক্তাদের কণ্ঠে প্রতিবাদের অগ্নিঝলক:
মানববন্ধনে বক্তারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও কঠোর ভাষায় বলেন,
“আয়েশার মতো একটা ফুলের মতো শিশুকে যারা পিষে ফেলে, দিপু দাসের মতো একজন শ্রমজীবীকে যারা জীবন্ত পুড়িয়ে মারে—তারা মানুষ নয়, দানব। এই দানবদের একমাত্র ঠিকানা হওয়া উচিত ফাঁসির দড়ি। আমরা কি এমন এক দেশে বাস করছি যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা নেই? যেখানে শ্রমিকের জীবনের দাম নেই?”
তারা আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই আজ অপরাধীদের এত সাহসী করে তুলেছে। অবিলম্বে এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো আয়েশাকে অকালে ঝরে যেতে না হয়।
উপস্থিত ছিলেন যারা:
জেলা যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অমিত কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে এই প্রতিবাদী সভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মাদব দত্ত, বিশ্বজিত সাধু এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। প্রত্যেকের কন্ঠেই ছিল একই সুর—”আর কোনো রক্ত নয়, এবার চাই বিচার।”
চূড়ান্ত আল্টিমেটাম:
মানববন্ধন শেষে সভাপতির বক্তব্যে অমিত কুমার ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আজকের এই মানববন্ধন কেবল শুরু। যদি অতি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে সাতক্ষীরা থেকে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে। আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ স্বদেশ না পাওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।”
শেষ কথা:
সাতক্ষীরার এই মানববন্ধন যেন কেবল একটি কর্মসূচি ছিল না, এটি ছিল এক পৈশাচিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে একাট্টা হওয়া সাধারণ মানুষের হৃদয়ের হাহাকার। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এই আর্তনাদ শুনে কত দ্রুত অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করায়।