সাতক্ষীরায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নজিরবিহীন হামলা চালিয়ে আটককৃত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনভর জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পরিচালিত পুলিশের এক বিশেষ সাড়াশি অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশের ওপর এই দুঃসাহসিক হামলার ঘটনায় পুরো জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার প্রাণকেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত বেতনা নদী থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি ও বালু লুটপাট করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল সকালে পুলিশ ওই এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে মাটি লুটপাটের মূল হোতা কিসমত আলীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তাকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নিকটস্থ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিসমত আলীর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার ক্যাডার বাহিনী ও একদল উগ্র সহযোগী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ফাঁড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধস্তাধস্তির সুযোগে তারা কিসমত আলীকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে দুইজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং বর্তমানে তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুলিশের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পরপরই আসামিদের ধরতে মাঠে নামে পুলিশের একাধিক দল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার পরিচালিত অভিযানে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
সাতক্ষীরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, “রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা প্রদান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অপরাধীদের শিকড় যত গভীরেই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।” পলাতক বাকি আসামিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।