নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এক লক্ষ টাকা জরিমানার তোয়াক্কা না করেই ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী মহল। জরিমানার মাত্র তিন দিন পরই প্রশাসনকে প্রকাশ্যে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি গিয়াসউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার সাথে জড়িত। গত অভিযানে প্রশাসন তাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করলেও তাতে কোনো শিক্ষা হয়নি। বরং জরিমানার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে চক্রটি।
শনিবার ৪ জানুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে সোনারগাঁয়ের অলিপুরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আবারও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি কাটা এবং ট্রাকে করে ইটভাটায় পরিবহনের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয়রা। রাতের আঁধারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে প্রকাশ্যে এই পরিবেশ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হলেও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া থাকায় অভিযুক্ত গিয়াসউদ্দিন কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বারবার অভিযোগ ও জরিমানার পরও যদি একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হয়, তবে প্রশাসনের কঠোরতার দাবি কতটা বাস্তব তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
এভাবে অবৈধ মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র অবাধে লাভবান হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয় প্রশাসন এবারও নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে, নাকি দলীয় প্রভাব উপেক্ষা করে সত্যিকার অর্থে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।