1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পানি না নামা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল বন্ধ থাকবে এবার স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের বিপৎসীমার কাছাকাছি তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের সব রেফারিই আর্জেন্টিনার ইরাকে খামেনির শোক মিছিলে ২৩ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণ জুলাইযোদ্ধা হওয়ার প্রায় ২০০টি আবেদনই ভুয়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত ভূমিহীনদের মাঝে খাস জমি বরাদ্দ দিতে সংসদ সদস্যদের কাজ করার পরামর্শ স্পিকারের ‘আওয়ামী লীগের একটি অর্গানকেও ফাংশন করতে দেওয়া হবে না’: আবিদুল ইসলাম মাদকের পক্ষে দলের নেতারা তদবির করলে তাদেরসহ গ্রেপ্তার করা হবে: খায়রুল কবির

নাজিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস–শিক্ষক সমিতির যোগসাজশে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

কামরুল আহসান সোহাগ 
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির যোগসাজশে চলছে প্রকাশ্য অর্থ লুটপাট—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রতি ধাপে ধাপে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে আদায় করা হচ্ছে টাকা, যা সরাসরি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপন্থী।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক গত ১৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে সহকারী পরিচালক নাসরিন সুলতানার স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে (স্মারক নং- ৩৮.০১.০০০০.৪০০.০৫.০০৫.১৮.১৬/১(১১৮)) স্পষ্টভাবে বলা হয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী প্রশ্নপত্র কম্পিউটারে কম্পোজ করতে হবে এবং প্রশ্নপত্র প্রিন্ট, ফটোকপি, উত্তরপত্র (খাতা) ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বিদ্যালয়ের আনুষঙ্গিক খাত বা স্লিপ ফান্ড থেকে নির্বাহ করতে হবে।
কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে নাজিরপুর উপজেলা শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তৈরি করে শিক্ষকদের কাছে প্রতি পিস প্রশ্ন প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য ৬ টাকা এবং তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ১০ টাকা হারে বিক্রি করা হচ্ছে।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফাইনাল পরীক্ষার ফি বাবদ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ফি নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ২০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণি ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণি ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণি ৫০ টাকা। এমনকি বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য বই দেওয়ার সময়ও স্কুলপ্রতি ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলায় মোট ১৮২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে অন্তত ১১০টি বিদ্যালয়ে ফাইনাল পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৪নং মধুভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০নং বৈঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৮নং নাওটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৫৯নং, ৬১নং, ৬৩নং, ৬৪নং, ৬৫নং, ৬৭নং, ১০৪নং ও ১৩৭নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নাজিরপুর ৬৫নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানিয়া সাবরিনের পিতা, নাজিরপুর সদর এলাকার বাসিন্দা মো. সাব্বির খান বলেন, “আমার মেয়ের কাছ থেকে ৪০ টাকা পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছে। পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে—বার্ষিক পরীক্ষার কোনো ফি নেওয়া যাবে না। শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড। তারা যদি দুর্নীতি করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে? আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
৯নং পশ্চিম বানিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ৭৯নং মধুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম ফয়সাল আলম স্যার আমাকে ফোন করে বলেন, বিভিন্ন খরচ আছে—স্কুলপ্রতি ১০০ টাকা নিতে হবে। তার নির্দেশ অনুযায়ী আমি সব শিক্ষককে মেসেজ দিয়ে জানাই, বই নিতে আসার সময় ১০০ টাকা আনতে হবে। আমি শুধু তার নির্দেশ পালন করেছি, এর বেশি কিছু বলতে পারব না।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোনো কাজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম ফয়সাল আলম স্যারের মাধ্যমে না গেলে হয় না। তারা আরও বলেন, ফয়সাল স্যার প্রকাশ্যে দাবি করেন, তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ‘লিজ’ নিয়েছেন। তার মাধ্যম ছাড়া কেউ কোনো কাজ করাতে পারবে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, পেনশন ফাইলের জন্য ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং ডেপুটেশনের জন্য ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে শিক্ষকরা নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকির শিকার হন। এ কারণেই কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি একেএম ফয়সাল আলমের মুঠোফোনে কয়েকবার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হাকিম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আপনারা লিখিত অভিযোগ করুন, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রশ্নপত্র ও বই বিতরণে স্কুলপ্রতি ১০০ টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একই মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বক্তিয়ার রহমান বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, আপনাদের কাছ থেকেই জানলাম। আমি এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলছি। যারা দোষী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com