কক্সবাজার-টেকনাফ এর নাফ নদী সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযানে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ধারাবাহিকভাবে সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ টেকনাফ উপজেলার নাজিরপাড়া বিওপি এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নাজিরপাড়া বিওপি’র বিআরএম-৬ হতে আনুমানিক ৫০০ গজ দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এবং বিওপি থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নারিকেলকাঠি নামক এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান নাজিরপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করা হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ২ বিজিবি’র অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত আনুমানিক ০৪০০ ঘটিকায় বিজিবির আভিযানিক দল কৌশলগতভাবে কেওড়া বাগানের ঝোপঝাড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হাতে মাছ রাখার পাত্র (ডুলা) নিয়ে নাফ নদীর তীর ধরে কেওড়া বাগানের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ব্যক্তি গ্রেফতার এড়াতে ডুলাটি ফেলে কেওড়া বাগানের ভেতরে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ফেলে যাওয়া ডুলা তল্লাশি করে অদ্য সকাল আনুমানিক ০৭১০ ঘটিকায় বিশেষভাবে মোড়কজাত করা ০৪টি প্যাকেটের ভেতর লুকানো অবস্থায় ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পালিয়ে যাওয়া মাদক কারবারিকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান বলেন,
“আজকের এই সফল অভিযান আবারও প্রমাণ করে—দেশের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষার প্রশ্নে বিজিবির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কোনো আপস নেই। সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি সুরক্ষিত রাখতে এবং মাদক চোরাচালান সম্পূর্ণরূপে রুখে দিতে ২ বিজিবির অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি
অধিনায়ক
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)