পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ৯নং কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে জমি ও মাছের ঘের সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও নারীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি মাছের ঘের ও কৃষি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে ৯নং কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৭নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন ডাকুয়া, নজরুল ডাকুয়া, মন্টু ডাকুয়া, হেলাল ডাকুয়া এবং কয়েকজন নারী সদস্যের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে পরিচিত ওলি হাফেজের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার উদ্যোগ নেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সমাধানে না এসে ওলি হাফেজ উল্টো ইউনিয়ন আহ্বায়কসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই দিন আগে মাছের ঘের ও জমির পাশে নারিকেল গাছ থেকে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় বাধা দিতে গেলে মামুন ডাকুয়া ও নারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওলি হাফেজের স্ত্রী ও তার মেয়ে তানজিলা নারীদের চুল টেনে ধরেন এবং হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।
পরবর্তীতে ঘটনার চিত্র উল্টোভাবে উপস্থাপন করে মামুন ডাকুয়াসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়া ও মারধরের অভিযোগ এনে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তবে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, প্রকৃতপক্ষে হামলার শিকার মামুন ডাকুয়া ও ওই নারীরাই।
এ ঘটনায় বৈঠাকাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন বিশ্বাস জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।