1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খামেনির শোকযাত্রায় দেখা মিলেছে ‘নিহত’ ঘোষণা করা সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে! এনসিপির সমাবেশে হামলায় প্রশাসন জড়িত, অভিযোগ জামায়াতের এনসিপির জনসভায় হামলা রাজনীতির জন্য একটি কালো অধ্যায়: ইশরাক হোসেন বেগম খালেদা জিয়া বেতনের টাকা দিয়ে দিতেন এতিমখানায় ফুলবাড়ীতে থাউজেন্ড হসপিটাল এর ৩ য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ২০২৭ সালের গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ শ্রীপুরেে পল্লী উন্নয়ণ দিবসে আলোচনা সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত অবাধ ও গ্রহণযোগ্য সিবিএ নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য—শেখ মাহমুদ পারভেজ সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ইসরাইলে গৃহযুদ্ধের ‘বাস্তব’ আশঙ্কা দেখছেন ৬০ শতাংশ নাগরিক

পিরোজপুরে শতবর্ষী পিঠা উৎসবে ১০৯টি চুলায় ভাজা হলো চিতই পিঠা

কামরুল আহসান সোহাগ, পিরোজপুর
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪৩ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী সার্বজনীন কালী মন্দির কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী চিতই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণে এ উৎসব চলে।
বাৎসরিক এই চিতই পিঠা উৎসবে মাঘের অমাবস্যা তিথিতে মন্দিরের সামনে বিশাল আকৃতির বটগাছের নিচে মাটির তৈরি নতুন ১০৮টি চুলা স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দণ্ডায়মান বটগাছের মধ্যভাগে বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে সেখানে আরও একটি (০১টি) চুলা স্থাপন করা হয়। এভাবে মোট ১০৯টি চুলায় একসঙ্গে চিতই পিঠা ভাজা হয়। এই আয়োজন করে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
চিতই পিঠা উৎসবটি শুরু হয় সন্ধ্যায় এবং শেষ হয় গভীর রাতে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে পিরোজপুর জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য নারী-পুরুষ, ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ করা যায় পিঠা উৎসবকে ঘিরে। উৎসবটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে হলেও স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও পিঠা উৎসব উপভোগ করতে আসেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি অমৃত লাল দাস জানান, প্রায় শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এ চিতই পিঠা উৎসব হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মাঘের অমাবস্যা তিথিতে কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মন্দিরের ভক্তসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসেন। অনেকেই তাদের মনোবাসনা (মানত) পূরণের জন্য কিংবা মানত পূর্ণ হলে এখানে এসে চিতই পিঠা উৎসবে যোগ দেন। এদের অধিকাংশই সন্তান লাভের আশায় মানত করা নারীরা। সন্তান লাভের পর তারা এখানে এসে চিতই পিঠা উৎসব করেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বাব-দাদার কাছ থেকে শুনেছি, একসময় এক মা সন্তান লাভের আশায় এখানে মানত করেন। পরে তার মনোবাসনা পূর্ণ হলে তিনি কালী মায়ের উদ্দেশ্যে চিতই পিঠা ভেজে খাওয়ান। সেখান থেকেই এ উৎসবের সূচনা। এ কারণেই এর নামকরণ করা হয়েছে শতবর্ষী পিঠা উৎসব। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো ভক্ত এ উৎসবে অংশ নেন।
মন্দিরের দায়িত্বে থাকা পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী জানান, প্রায় শত বছরেরও বেশি সময় আগে তার পূর্বপুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী প্রথম এই উৎসবের আয়োজন করেন। উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা যোগ দেন। তারা মনোবাসনা পূরণের জন্য এখানে মানত করেন এবং মানত পূর্ণ হলে এই চিতই পিঠা উৎসবে অংশ নেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে সেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি। উপস্থিত অনেক দম্পতির কোলে ছিল ছোট শিশু সন্তান। কালী মন্দির সংলগ্ন বটগাছের সামনের মাঠে সারিবদ্ধভাবে পরপর ১০৮টি নতুন মাটির চুলা তৈরি করা হয়েছে। সেই চুলাগুলোর ওপর সাজানো ছিল চিতই পিঠা তৈরির মাটির সাজ। পাশাপাশি দণ্ডায়মান বটগাছের মধ্যভাগে আরও একটি চুলা স্থাপন করা হয়।
পাশেই ঢোল-কাশসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজানো হচ্ছিল। সন্ধ্যার পরপরই মন্দিরের দায়িত্বে থাকা পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী প্রতিটি চুলায় পর্যায়ক্রমে লোহার পাত দিয়ে আঘাত করেন। এরপর চুলার সাজে ফুল দেওয়া হয় এবং আগুন জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এ সময় হিন্দু নারীরা উলুধ্বনির মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
১০৮টি চুলায় পর্যায়ক্রমে পিঠা তৈরিতে অংশ নেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের নারীরা। অন্যদিকে অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্যরা পিঠা তৈরির উপকরণ হিসেবে চালের গুঁড়ার গোলা সরবরাহ করেন। এছাড়া কালী মন্দিরের সামনের বৃহৎ আকৃতির বটগাছের ওপর বসে এক ভক্তকে অপর একটি চুলায় পিঠা ভাজতে দেখা গেছে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com