1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খামেনির শোকযাত্রায় দেখা মিলেছে ‘নিহত’ ঘোষণা করা সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে! এনসিপির সমাবেশে হামলায় প্রশাসন জড়িত, অভিযোগ জামায়াতের এনসিপির জনসভায় হামলা রাজনীতির জন্য একটি কালো অধ্যায়: ইশরাক হোসেন বেগম খালেদা জিয়া বেতনের টাকা দিয়ে দিতেন এতিমখানায় ফুলবাড়ীতে থাউজেন্ড হসপিটাল এর ৩ য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ২০২৭ সালের গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ শ্রীপুরেে পল্লী উন্নয়ণ দিবসে আলোচনা সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত অবাধ ও গ্রহণযোগ্য সিবিএ নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য—শেখ মাহমুদ পারভেজ সালমান শাহর দেহাবশেষ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ইসরাইলে গৃহযুদ্ধের ‘বাস্তব’ আশঙ্কা দেখছেন ৬০ শতাংশ নাগরিক

জমিদারি নেই, তবু কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জমিদার ভবন

লক্ষ্মণ রায় পঞ্চগড় প্রতিনিধি ;
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০৩ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নে একসময় ছিল বিখ্যাত জমিদার মতিলাল বাবু—যিনি এলাকায় ‘মতি বাবু’ নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর জমিদারি শুধু সম্পদের জন্য নয়, মানুষের উপকার ও নেতৃত্বের জন্যও প্রসিদ্ধ ছিল।
এই অঞ্চলের জমিদারির সূচনা হয়েছিল দেবানন্দ বাবুর হাত ধরে। তাঁর দুই পুত্র ছিল।ধৈর্য নারায়ন ও লোক্ষীন্দ্র নারায়ন।দুই পুত্রের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ধৈর্য নারায়ণ জমিদারির দায়িত্ব নেন। ধৈর্য নারায়ণের তিন পুত্র ছিলেন—মতিলাল রায় (মতি বাবু) (১৮৬০–১৯৪৫), মধুসূদন ও যদুনাথ। পৈতৃক সূত্রে জমিদারি পেলেও মতি বাবুর হাত ধরেই এই জমিদারির বিস্তার ও প্রভাব বহুগুণে বেড়ে যায়।
একসময় এই জমিদারির আয়তন ছিল প্রায় ২,৫০০ একর। দক্ষিণে গোড় গ্রাম (ধোবাডাঙ্গা), পশ্চিমে বাগদহ (চেংঠি), উত্তরে ভারতের হলদিবাড়ি এবং পূর্বে ভবানন্দ হাট পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এর সীমানা।
আজও সেই ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি ধ্বংসপ্রায় ভবন, একটি মন্দির ও দুটি পুকুর। মন্দিরটি এখন প্রায় ভেঙে পড়ার মতো হলেও সেখানে নিয়মিত পূজার্চনা হয়। সরকারি কোনো সংস্কার বা সংরক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় ধীরে ধীরে এই ইতিহাস হারিয়ে যেতে বসেছে।
বর্তমান ৬ নং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের বাবু পাড়া গ্রামে অবস্থিত এই জমিদার বাড়িটি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়—এটি পঞ্চগড় জেলার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে।
১৯৭১ সালে মধুসূদন ও যদুনাথ ভারতে বসবাস করায় তাঁদের অংশের সম্পত্তির মালিকানা আসে ভ্রাতুষ্পুত্র মতি বাবুর সন্তানদের হাতে। মতি বাবুর উত্তরাধিকাররা আজও বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
তবে অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা বাংলাদেশে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ভারতবাসী দেখিয়ে কিছু সম্পত্তি ভিপি (ভেস্টেড প্রপার্টি) ও অর্পিত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে জমিদার বংশের উত্তরাধিকাররা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসী ও উত্তরাধিকারদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে ভেস্টেড প্রোপার্টি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করা হোক এবং ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও জমিদার বাড়িটি সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক—যাতে ইতিহাস ও অধিকার, দুটোই রক্ষা পায়।
এই বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ সাইফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান,”এই জমিদার বাড়িটির তথ্য আমাদের কাছে আপাতত নাই।যেহেতু তথ্য পাওয়া গেল।আমাদের একটি এ্যাডভান্স টিম শীঘ্রই পরিদর্শনে যাবে এবং সংরক্ষণযোগ্য হলে,অবশ্যই সংরক্ষন করা হবে।”
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com