শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় সরকারি গৌরনদী কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে শিশু ও কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু ছিল— স্বাধীনতা, দেশপ্রেম, জাতীয় প্রতীক, গ্রামবাংলা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও আদর্শ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা, দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তার সততা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস। আজকের এই শিশুরাই একদিন রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে তাদের মাঝে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জুলফিকার, সাবেক সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন মিয়া, খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন, এসএম মোশারফে, উত্তম কুমার, নাসির উদ্দীন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল গমস্তা, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তানিমসহ আরও অনেকে।
এছাড়াও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার আদর্শ তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে সহায়ক।
অনুষ্ঠানের শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও জাতীয় ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোকে ঘিরে এ ধরনের সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে।