অভিভক্ত বাংলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসংস্কারক ও আইনজ্ঞ মহামানব যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের ১২৩তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গৌরনদীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জন্মজয়ন্তী উৎসব উদযাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে গৌরনদী উপজেলার মৈশ্তারকান্দি এলাকায় অবস্থিত তাঁর জন্মভিটায় দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সকাল ৯টায় মহামানবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা মন্টু মন্ডল এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনোতোষ সরকার।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম জহির উদ্দিন স্বপন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল ছিলেন নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের সাহসী কণ্ঠস্বর। অবিভক্ত বাংলায় মন্ত্রী হিসেবে তিনি যে ভূমিকা রেখেছেন, তা সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁর আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া সময়ের দাবি। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। যোগেন্দ্রনাথ মন্ডলের জন্মভিটা সংরক্ষণ এবং স্মৃতিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল যে চিন্তা থেকে উচ্চ বর্ণের বিরুদ্ধে দারিয়ে সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রী পরিষদে গিয়েছিলেন আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমি কাজ করব। এই অঞ্চলে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জান-মাল ও সামাজিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম কাজল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবুল হোসেন মিয়া, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, টরকি বন্দর বণিক সমিতির সভাপতি শরীফ শাহাবুব হাসান, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুদেপ মন্ডল ও সুশান্ত মন্ডল, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন মিয়া, খন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন, মাকসুদ আলী সুমন, এ এস মামুন, বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খলিল মোল্লা, মো. ফরুক, মো. নাসির, আব্দুল মালেক সরদার, যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম কাফি, ছাত্রনেতা মো. রাজিব প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল অভিভক্ত বাংলার সমবায় ও ঋণদান মন্ত্রী, আইন ও বিচারমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে পাক-ভারত কেন্দ্রীয় সরকারের আইন ও শ্রমমন্ত্রী হিসেবে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর জীবন সংগ্রাম ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আলোচকরা তাঁর স্মৃতিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং জন্মভিটাকে একটি ঐতিহাসিক স্মারকস্থানে রূপান্তরের দাবি জানান।
দিনব্যাপী কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পুরো আয়োজনটি স্থানীয়ভাবে যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উদ্যোগে সম্পন্ন হয়।