নেত্রকোনার বারহাট্টায় পাওনা টাকার চেক জালিয়াতি করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকাকে ২৮ লাখ টাকায় রূপান্তর করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ওবায়দুল হক ওরফে ওবুল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী টুটন সরকার। অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে: অনুসন্ধান ও মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টায় একাধিক সাক্ষীর উপস্থিতিতে টুটন সরকার ওবায়দুল হককে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে টুটন সরকার ১ লাখ টাকা পরিশোধ করলে পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওবায়দুল হক সেই পরিশোধিত টাকার কথা গোপন করে এবং মূল চেকে থাকা সংখ্যার ওপর ‘ওভাররাইটিং’ করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকাকে ২৮ লাখ টাকায় রূপান্তর করেন।
চেকটির ফরেনসিক পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টাকার অংকে ‘৮’ সংখ্যাটিকে পরিবর্তন করে কৌশলে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, যা আইনত বৈধ সংশোধন নয়। ভুক্তভোগীর বক্তব্য: ভুক্তভোগী টুটন সরকার বলেন, “আমি ১ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর তিনি পাওনা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু এখন জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করে আমাকে সপরিবারে নিঃস্ব করার চেষ্টা করছেন। আমি এই প্রতারণার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।” আইনজীবীর অভিমত: এ বিষয়ে স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, চেকে ঘষামাজা বা ওভাররাইটিং করে টাকার অংক পরিবর্তন করা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। যদি প্রমাণিত হয় যে চেকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, তবে মামলার বাদী নিজেই প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত হবেন। স্থানীয়দের উদ্বেগ: স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের জালিয়াতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আর্থিক লেনদেনে চরম আস্থার সংকট তৈরি করবে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে আনা।