যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র ভৈরব চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা–৪ আসনে জোটপ্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে অনুষ্ঠিত ওই পথসভায় তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ মা-বোনদের হিজাব খুলে লাঞ্ছিত করছে, সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়েছে এবং দেশের মানুষের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তাদের রাজনীতি দ্বিমুখী। একদিন নেতারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেন, অন্যদিন কর্মীরা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালান। অন্যদিকে ১১ দলীয় ঐক্যজোট ইনসাফের পক্ষে রয়েছে এবং এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের আচরণ জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে, যা ছিল এক ধরনের ‘টেস্ট ম্যাচ’। পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আগের তিনটি নির্বাচনের মতো আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন জনগণ চায় না। তিনি ভোটারদের আগামী ১২ তারিখ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ধানের শীষের অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী বর্তমানে চাপে রয়েছেন। তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে না পারলেও গোপনে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন। এ সময় তিনি ওই নেতাকর্মীদের ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। যশোরবাসী আর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও নারী নির্যাতনকারীদের দেখতে চায় না। জনগণের শক্তিতেই আগামী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাকিব শাহরিয়ার। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান। পথসভা শেষে ভৈরব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পথসভাকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।