ভোটের সময় থেমে থাকলেও নির্বাচনের পরই সক্রিয় চক্র, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ
সোনাগাজী পৌরসভার অন্তর্গত রওজাতুল উলুম রহমানিয়া মাদ্রাসা ও আলমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পৃথক চুরির ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের সময় এলাকায় চুরির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও ভোট শেষ হতেই আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরচক্র—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রওজাতুল উলুম রহমানিয়া মাদ্রাসায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তালা ভেঙে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। এ সময় আলমারি ভেঙে নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং কিছু মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় তারা। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সকালে এসে দরজার ভাঙা তালা ও এলোমেলো কক্ষ দেখে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন।
অন্যদিকে আলমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদেও একই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। মসজিদের দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি মসজিদের সাউন্ড সিস্টেমের কিছু সরঞ্জামও খোয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার থাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা প্রায় বন্ধ ছিল। কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই টহল কমে যাওয়ায় চোরচক্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত টহল বৃদ্ধি ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, “শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে চুরি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
এদিকে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকেও থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনা রোধে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং নিয়মিত পুলিশ টহল নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনাগুলোতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা