বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার মাঠে মাঠে লক লক করছে পেঁয়াজ-রসুন। উপজেলার মোট আয়তন ২২৭.৬২ বর্গ কিঃমিঃ কৃষি জমির পরিমান ২২৭৫৪ হেক্টর। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে দেশের উচ্চ ভূমিতে অবস্থিত হলে ও উপজেলাটি কুমার এবং নবগঙ্গা নদী বেষ্টিত, রয়েছে বিল বাঁওড় সহ বেশ কিছু জলাভূমি, তাঁর মধ্য রঘুনাথপুর, ফলসী,কাপাশাটিয়া ইউনিয়ন জুড়ে রয়েছে কাকল বিল এবং দাদুয়ার বিল নামে দুইটি বিল, যেখানে মোট জমির পরিমাণ ২১৯০ হেক্টর যেখানে ৯৫ ভাগ জমি বর্তমান চাষ যোগ্য ।
সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০০০ সালের আগ পর্যোন্ত বেশির ভাগ ভূমি জলাবদ্ধতার কারণে আমন মৌসুম ছাড়া আর কোন ফসল উৎপাদন সম্ভব হতোনা। গত বছর গুলোতে ২ থেকে ৩ টি ফসল উৎপাদন হয়েছে অধিকাংশ জমিতে। গত ৩/৪ বছরে বৃষ্টি পাতের পরিমান বেশি হওয়াতে রোপা আমন নষ্ট হচ্ছে তাই পেঁয়াজে র আগাম চাষ বৃদ্ধি করেছে কৃষক ।
বিগত ১৯৯৬ সালেরে পর থেকে কাকল বিলের সোহাগপুর অংশে প্রথম স্বল্প পরিসরে পেঁয়াজ চাষের উদ্যগ নেই কাবিল উদ্দিন নামে একজন কৃষক, প্রথম বারের সফলতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী ,উচ্চ ফলন এবং বাজার মূল্যে অনুপ্রেরণা পেয়ে এলাকার হাজারো কৃষক এগিয়ে আসে পেঁয়াজ এবং রসুন চাষে। দিনকে দিন ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে ইউনিয়নে বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন হচ্ছে বেশকিছু ইউনিয়নের প্রায় ২৩০০ হেক্টর জমিতে । ২০১৩ সালে খুলনা বিভাগের পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষে উঠে সোহাগপুর মাঠের কৃষকরা। সেই থেকে শুরু হয়েছে কৃষি ভিত্তিক জনপদের মানুষের স্বপ্ন যাত্রা আর স্বপ্ন সারথি হয়ে সাথে আছে পেঁয়াজ এবং রসুন ।
মাঠ পরিদর্শনে গেলে কৃষক আল আমিন হোসেন জানান এবছর অনুকূল আবহাওয়া থাকাতে আশানুরূপ উচ্চফলনের সম্ভাবনা রয়েছে তবে সার কীটনাশক নিড়ানী শ্রমিক মূল্যে বেশী হওয়াতে বাজার দর নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত আছে কৃষকরা । মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি কম রাখতে সরকারি পৃষ্টপোশকতা কামনা করেন। রসুন দেরীতে উঠলেও ইতিমধ্য পেঁয়াজ উঠাতে দেখা গেছে অল্প স্বল্প। কাকল বিলে এবং দাদুয়ার বিলে প্রতি শতাংশ জমিতে দেড় থেকে দুই মন হারে পেঁয়াজ এবং এক থেকে দেড় মন হারে রসুন উৎপাদন হয়ে থাকে ।