শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড–এর স্মৃতিবাহী পেতার বাড়ি (মেন্দি ভিটা) ব্রিজ কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে উন্নয়নের নামে গড়ে তোলা একটি কংক্রিটের কালভার্টের নিচে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কেবল একটি সেতু ভাঙার ঘটনা নয় এটি পরিকল্পিতভাবে ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা। যে সেতুর নিচ দিয়ে একসময় প্রবাহিত হতো শতবর্ষী সরকারি খাল, আজ সেখানে খালের কোনো অস্তিত্বই চোখে পড়ে না। খাল ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা, বাণিজ্যিক ভবন ও ব্যক্তিগত বাড়ি। প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই দখলযজ্ঞ চালিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

একজন প্রবীণ বাসিন্দার ভাষায়, এটা শুধু খাল দখল নয়, এটা ইতিহাস হত্যার শামিল। প্রশাসন কি অন্ধ, না ইচ্ছাকৃতভাবে নীরব?

পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি খাল ভরাটের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে আসন্ন বর্ষায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। আশপাশের গ্রামগুলোতে ফসলহানি, বসতবাড়িতে পানি ঢোকা এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে। এক পরিবেশ বিশেষজ্ঞের কড়া মন্তব্য, খালের ওপর স্থাপনা মানে জলপ্রবাহের গলা টিপে ধরা। এটা পরিবেশের বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধ।

এ বিষয়ে বহুবার স্থানীয় ও জাতীয় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। তদন্ত, উচ্ছেদ বা দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পরিবর্তে চলছে রহস্যজনক নীরবতা। ফলে জনমনে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে কার স্বার্থে এই নীরবতা? সরকারি সম্পদ কি প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হবে?

এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, দখল উচ্ছেদ এবং ঐতীহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সোনারগাঁ এর ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, বাস্তবে থাকবে কেবল দখল ও ধ্বংসের।