গতকাল রাতের হঠাৎ নেমে আসা ভয়াবহ ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রৌমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। রাত প্রায় ৮টার দিকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মুহূর্তের মধ্যেই তছনছ করে দেয় মানুষের স্বপ্ন, ভেঙে দেয় কৃষকের বছরের পরিশ্রম।
চিলমারী থানার অষ্টমীর চর ও নয়ারহাট ইউনিয়নসহ রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। আকাশ থেকে বড় বড় শিলা পড়তে থাকায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। এমন সময় কড়াইবড়িশাল এলাকায় নদীতে নৌকায় থাকা মিন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তি ঝড়ের কবলে পড়ে মারা যান। একই ঘটনায় ফরিদ নামে আরেকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
শুধু প্রাণহানিই নয়, এই ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার কৃষকরা। মাঠভরা ধান, গম, ভুট্টা ও চিনাসহ বিভিন্ন ফসল মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। যে ফসলের দিকে তাকিয়ে কৃষকরা নতুন আশার স্বপ্ন দেখছিলেন, সেই ফসল এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ।
শিলাবৃষ্টির আঘাতে অনেক বসতঘরের টিনের ছাদ ফুটো হয়ে গেছে। দরিদ্র পরিবারগুলো এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছে—কীভাবে ঘর মেরামত করবে, কীভাবে আবার নতুন করে শুরু করবে জীবন।
স্থানীয় প্রবীণরা বলছেন, প্রায় ৬০ বছরের জীবনে এমন ভয়াবহ শিলাবৃষ্টি তারা আগে দেখেননি। এক রাতেই যেন সবকিছু শেষ হয়ে গেল।
কৃষকদের ভাষায়, জ্বালানি তেল, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে তারা আগেই চরম সংকটে ছিলেন। এর মধ্যে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের কাছে দ্রুত কৃষি প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন এবং নতুন করে ফসল ফলানোর সাহস পান।