নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়ায় এক মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সাথী রানী (২৮) নামে তিন সন্তানের জননী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে মানসিক চাপে পড়ে তিনি এ চরম সিদ্ধান্ত নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন সাথী রানী। তিনি একই এলাকার দিলীপ রায়ের স্ত্রী।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, পাশের পাঙ্গা মটকপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণ রায় নামে এক যুবকের সঙ্গে সাথী রানীর সম্পর্ক ছিল। নিহতের ছেলে সৌরভ রায় (৭) জানায়, ওই যুবক প্রায়ই তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। এক পর্যায়ে তার মা কৃষ্ণ রায়কে প্রায় ১০ হাজার টাকা ধার দেন। পরে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো খারাপ ব্যবহার করায় তার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
এ বিষয়ে নিহতের স্বামী দিলীপ রায় (৩৪) বলেন, “আমি জানতাম না আমার স্ত্রীর এমন কোনো সম্পর্ক ছিল। আমার তিন সন্তানকে রেখে সে চলে গেল। এখন ওদের দেখভাল করবে কে? ওরা কাকে মা বলে ডাকবে?”—বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বাবু জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
ডোমার থানার পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয়রা।