পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ৪ নং চিড়াপাড়া ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় তানিয়া বেগম নামের এক প্রতিবন্ধী নারীর বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। একই এলাকার হীরা, ইউপি সদস্য আজিজুল ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম। সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম জানান, ২০১৬ সালে ভূমিহীন হিসেবে কাউখালী উপজেলার চিড়াপাড়া ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের কচা নদীর পাড়ে ২১ শতাংশ জমি সরকার থেকে বরাদ্দ পান। ২০২৩ সালে তিনি সেখানে একটি বসতঘর নির্মাণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকার হীরা, আজিজুল (ইউপি সদস্য), হিরনসহ আরও কয়েকজন ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছে এবং তাকে সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছে। এর আগেও তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে।
গত সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে তানিয়ার বসতঘর ভাঙচুর করে সেখান থেকে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মালামাল লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী তার বসতঘর ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তরা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর তানিয়ার ননদ নিলুফা বেগম ফোন করে জানান, তানিয়া ও তার শ্বশুর-শাশুড়িকে সাইফুলের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় হীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি জরুরি কাজে সেখানে গিয়েছিলেন।
এরপর সাংবাদিকরা চলে যাওয়ার পর আবারও তাদের অন্য একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নিলুফা বেগম ৯৯৯-এ ফোন করলে কাউখালী থানা পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম কাউখালী উপজেলার ৪ নং চিড়াপাড়া ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের ফিরোজ খানের স্ত্রী। অভিযুক্ত হীরা একই এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে এবং আজিজুল (ইউপি সদস্য) আব্দুর রবের ছেলে।
তানিয়া বেগম বলেন, “২০২৩ সালে আমি এই ঘরটি নির্মাণ করেছি। এর আগে এখানে কাউকে দেখা যায়নি। এখন হঠাৎ করে এসে তারা আমার ঘর ভাঙচুর করেছে। আমার শ্বশুরকে আগের দিন মারধর করেছে এবং ঘর ভাঙচুর করে স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। আমি এর বিচার চাই।”
তানিয়ার শ্বশুর মোফাজ্জেল খান বলেন, “রবিবার আমাকে মারধর করেছে হীরা, আজিজুল ও তাদের লোকজন। পরদিন আমি বাড়িতে এসে দেখি তারা ঘর ভাঙচুর করছে। আমি ভয়ে কিছু বলিনি। তারা প্রায়ই আমাদের মারধর ও হুমকি দেয়। জমির সব কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে, সরকার থেকেই এটি বরাদ্দ পাওয়া।”
এ বিষয়ে কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।