বরগুনার তালতলী উপজেলার শিকারীপাড়া এলাকায় নদী ভাঙনের ভয়াবহতা থেকে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে সোমবার সকাল ১১টায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্ধার মানিক নদীর তীরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধন ঘন্টা খানিক ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয়রা জানান, আন্ধার মানিক নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা ইতোমধ্যে হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কাজির খাল সুলিজ গেট থেকে নিওপাড়া সুলিজ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার নদীরতীর ভাঙনের কবলে রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতি বছর নদী ভাঙনের কারণে হাজার হাজার পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। চোর-ডাকাত ঘর লুট করলে কিছু না কিছু অবশিষ্ট থাকে, আগুনে সব পুড়ে গেলেও ভিটে টিকে থাকে। কিন্তু নদী ভাঙনের সামনে সব শেষ, সব কিছু নদীর পানিতে বিলীন হয়ে যায়।
এই সময়ে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম হুমায়ুন আহমেদ, উপজেলা জিয়া মঞ্চের সভাপতি ইমরান হোসেন ফোরকান
, বর্তমান ইউপি সদস্য মোঃ আনোয়ার খান,সাবেক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন, সমাজসেবক আলাউদ্দিন মোল্লা, এবং সাংবাদিক হাইরাজ মাঝি।
বক্তারা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের এলাকায় নদী ভাঙন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। হাজারো পরিবার, ফসলি জমি এবং বসতভিটা বিপন্ন। আপনার হস্তক্ষেপে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি রোধ করা সম্ভব।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়ারা অবিলম্বে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং নদী ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তারা সতর্ক করে বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই যদি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। স্থানীয়রা মনে করেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না হলে হাজারো মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হবে।