1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নির্বাচন করতে চাইলে চাকরি ছেড়ে দিন, শিক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রী মানব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, অংশ নেবে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ পিরোজপুরে নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন: বছরব্যাপী নানা আয়োজনের ঘোষণা গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য মোতায়েন; নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের প্রত্যাশা আত্রাইয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে শিশু ধর্ষণ: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ অভিযুক্ত গ্রেফতার, এলাকায় বিক্ষোভ ভোলা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আদমদীঘিতে সংস্কার ও উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে যাচ্ছে উপজেলার চিত্র জুলাই শহীদ স্মরণে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় জামায়াতের উদ্বেগ পায়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন কলি রানী খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

সেই সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল করতেন আ.লীগ, তার বাবা বিএনপি নেতা

Desk report
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

একটি মামলার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবুল হাসান মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) তার নিয়োগ বাতিল করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অভিযোগকারী রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. সারোয়ার খালেদ সিলিকন রিয়েল এস্টেট (প্রাইভেট) লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আবুল হাসানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেন সারোয়ার খালেদ।

ঘুসকাণ্ডে অব্যাহতি পাওয়া সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল হাসানের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় চলছে ব্যাপক তোলপাড়। তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তবে আবুল হাসানের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন ধারার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় (১২ মার্চ) ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের হাত ধরে দলীয় ফরম পূরণের (নম্বর-৩৫৭৬১৩০) মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অভিষেক হয় আবুল হাসানের। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহের উদ্দিনের সঙ্গে বিভিন্ন নির্বাচনি ক্যাম্পে প্রচারণা চালান এবং নিজ কেন্দ্র আগ-কলিয়ায় নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোট সংগ্রহে সরাসরি ভূমিকা রাখেন।

পরবর্তীতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং সক্রিয় সদস্য হিসেবে দলীয় নানা কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে পরিচিতি পান। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের আমলে একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার তদবিরে বাগিয়ে নেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় রাজনীতি, আইনজীবী ও প্রতিবেশীরা জানান, বাবা বিএনপির সভাপতির মতো প্রভাবশালী পদে আছেন। আর ছেলে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতিটি ধাপেই পরিবারটির অবস্থান যেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর কাছাকাছি।

স্থানীয়দের ভাষায়, যেই দল ক্ষমতায়, সেই ঘরেই তাদের অবস্থান ফলে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারটি ‘সেফ জোনে’ রয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে আবুল হাসানের বাবা দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ঘটনাটি চক্রান্তমূলক। এছাড়া আবুল হাসান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে সিলিকন রিয়েল এস্টেট (প্রাইভেট) লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. সারোয়ার খালেদ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা একটি রিট পিটিশনে ২০২৪ সালের ২৬ মে হাইকোর্ট সিলিকন রিয়েল এস্টেটের বিরুদ্ধে রুল ও নির্দেশনা জারি করে। সেই রুল তিন মাসের মধ্যে খারিজ (ডিসচার্জ) করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আবুল হাসান ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা নেন। পূর্ব পরিচিত আরেক আইনজীবী মো. ফখরুল ইসলামের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তাকে এই নগদ টাকা দেওয়া হয়।

টাকা নেওয়ার এক বছর পার হলেও আবুল হাসান মামলায় কোনো পদক্ষেপ নেননি দাবি করে সরোয়ার আরও অভিযোগ করেন, বারবার তাগাদা দিলেও আবুল হাসান বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে অন্য আইনজীবী নিয়োগের জন্য তার কাছ থেকে মামলার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নেওয়া হলেও তিনি ওই ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা আর ফেরত দেননি। আপসের চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

সারোয়ার বলেন, শুরুতে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করে আবুল হাসান তার আস্থা অর্জন করেন এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। বিশেষ করে হাইকোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

তার ভাষ্য, তিনি আর্থিক সংকটের মধ্যেও ধারদেনা করে একাধিক কিস্তিতে বিপুল অর্থ দেন। লেনদেনের বেশিরভাগই নগদে হয়েছে এবং আদালত সম্পৃক্ত এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। তার অফিসের কর্মীরাও এই লেনদেনের সাক্ষী রয়েছেন এবং লেজারে তারিখসহ টাকার হিসাব আছে।

ব্যবসায়ী সরোয়ার বলেন, পরবর্তীতে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি স্পষ্ট হলে আমরা সরাসরি বৈঠকে বসি এবং টাকা ফেরত ও এনওসি দেওয়ার অনুরোধ জানাই। তিনি এনওসি দিলেও টাকা ফেরত দেননি এবং এরপর থেকে যোগাযোগ এড়িয়ে যাচ্ছেন।

গত রোজার আগেই অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা বলেন সরোয়ার।

নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এএজি মো. আবুল হাসানকে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তর অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com