কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের বাজারপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ইয়াবা বিক্রির আখড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরীর নেতৃত্বে পেকুয়া থানা পুলিশের একটি দল বাজারপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মাদক বিক্রির অভিযোগে চিহ্নিত কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালানো হয় এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে কথিত মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মগনামা বাজারপাড়া এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে ছাদেকের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ছাদেককে পুলিশ একাধিকবার মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্ত হয়ে ছাদেক পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারপাড়া এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসার মূলহোতা ছাদেক। তার ছেলে রুবেল, স্ত্রী মোরশিদা, কাইছারের ছেলে সরওয়ার, সরওয়ারের স্ত্রী রুবি এবং কালু মিয়ার মেয়ে পুতুও দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের এ কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার একাংশের তরুণ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ কারণে বাজারপাড়ায় সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। পরিস্থিতির অবসানে দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়ে আসছেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী বলেন, “মগনামা ইউনিয়নের বাজারপাড়া এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক নির্মূলে ব্যাপক আলোচনা শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ইউনিয়নের কোথাও মাদক ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না। স্থানীয়দের সহযোগিতা এবং পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।”
পেকুয়া থানা পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার পাশাপাশি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।