শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে এক কর্মকর্তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বুধবার (৮ জুলাই) নড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩৭৯) করেছেন।
গত ২ জুন ২০২৬ দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন মো. তৌফিকুল ইসলাম। এ সময় মতিউর রহমান সাগর নামের এক ব্যক্তি অফিসে প্রবেশ করে উপজেলা প্রকৌশলীর খোঁজ করেন। প্রকৌশলী অফিসে নেই জানার পর সাগর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য শুরু করেন।
তৌফিকুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে সাগর নিজেকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি তৌফিকুল ইসলামের শার্টের কলার ধরে চড়-থাপ্পড় মারেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মারধরের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বলেন, “উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রুমিকে মারার জন্য এসেছিলাম। তাদের না পেয়ে তোকেই নমুনা দেখিয়ে গেলাম।” ঘটনার সময় অফিস সহায়ক মো. সজিব হোসেন ও অফিস সহকারী মো. সামসুদ্দিন এগিয়ে এসে তাকে শান্ত করে অফিস থেকে বের করে দেন। যাওয়ার সময় মতিউর রহমান সাগর ভুক্তভোগী কর্মকর্তাকে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, মামলা-মোকদ্দমা করলে পুনরায় মারধর করা হবে এবং তাকে ওই অফিসে আর থাকতে দেওয়া হবে না।
এই ঘটনায় এলজিইডি নড়িয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহার মিয়া জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর ফোনকলে জানান, গত ৬ মাসের মধ্যে তিনি নড়িয়া উপজেলা কার্যালয়ে যাননি। তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ ছাড়া কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।