বহুযুগের অবহেলা ও যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ কাটিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার উত্তর সুতালড়ী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি অবহেলিত সড়ক। এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ কষ্ট লাঘবে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকাকরণের অনুমোদন মিলেছে। আগামী বছরের মার্চ মাসে এর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতীতে এই জনপদের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত ছিল। প্রতিটি বাড়ির সামনে চলাচলের রাস্তা থাকার কথা থাকলেও সামান্য ইটের সোলিংয়ের বালাই ছিল না। দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা এ রাস্তায় বর্তমানে একটি ভ্যান বা বাইসাইকেল চালানোও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পুরো রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো রোগীকে বাড়ি থেকে বের করে মূল সড়কে আনতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়দের এই দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে আসে একই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আলী আকবারের ছেলে, তরুণ প্রোগ্রামার ও উদ্যোক্তা রেদোয়ান সজীবের। তার বিশেষ অনুরোধ এবং তারিকুল ইসলাম (তারিক খান)-এর আন্তরিক সহযোগিতায় বাগেরহাট-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের সম্মতিতে উত্তর সুতালড়ী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মূল সড়ক থেকে ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের এই প্রস্তাব পাস হয়।
এ বিষয়ে রেদওয়ান সজিব বলেন, “গ্রামটি আমার জন্মভূমি, আমাদের গ্রামের বাড়ি। শৈশবের অর্ধেক সময় ওই মাটিতে কাটিয়েছি। ক্লাস ফোরে পড়া শেষ করে আমি ওই গ্রাম ছেড়েছি, তাই সে মাটির জন্য আমার আলাদা একটা টান রয়েছে। যখন শুনতাম গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছে না, বর্ষার মৌসুমে জরুরি পরিস্থিতিতে কোনো রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না, তখন খুব কষ্ট হতো। সে সময়ই মনে মনে চিন্তা ছিল, সুযোগ পেলে এই জনপদের মানুষের কল্যাণে রাস্তাটির কাজ করানোর জন্য চেষ্টা করব, অনুরোধ জানাব।”
তিনি আরও বলেন, “মহান আল্লাহর কৃপায় আমি শুধু তারিকুল ইসলাম (তারিক খান) আংকেলকে বিষয়টি অনুরোধ করেছিলাম। এরপরে সম্পূর্ণ কাজটি তিনিই করেছেন। তিনি সরাসরি মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে বিষয়টি অবহিত করেন এবং তার অনুরোধেই ইঞ্জিনিয়ার সরেজমিনে রাস্তাটি ভিজিট করার পর এটি পাস হয়। এ জন্য আমি আংকেলকে এই জনপদের মানুষের পক্ষ থেকে অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। এই রাস্তায় আমাদের বা আঙ্কেলের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। আমরা শুধু উত্তর সুতালড়ী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শত শত পরিবারের মানুষের কথা চিন্তা করেই এই উদ্যোগ নিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে তরিকুল ইসলাম অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলেন, “আমি শুধু মানুষের জন্য চেষ্টা করেছি। সবাই দোয়া করবেন যেন মানুষের কল্যাণে সবসময় নীরবে ও গোপনে কাজ করে যেতে পারি। আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।”
আগামী বছরের মার্চের দিকে এই রাস্তার নির্মাণকাজ শুরু হবে। রাস্তাটি সুন্দর ও নান্দনিকভাবে সম্পন্ন করতে এলাকাবাসীর আন্তরিক সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর রাস্তাটি যেন এলাকাবাসী নিজেরাই সযত্নে দেখভাল করেন, সেই আহ্বানও জানানো হয়েছে।
রাস্তা অনুমোদনের খবরে উত্তর সুতালড়ী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে এসেছে। রাস্তাটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। এর ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সহজে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে পারবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে ও কম খরচে বাজারে নিতে পারবেন। সব মিলিয়ে শত শত পরিবারের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ দূর হবে। এখন কেবল নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরুর অপেক্ষা।




